প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের পারদ যত চড়ছে, ততই যেন মেজাজ হারাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মালদহের মালতিপুরের নির্বাচনী সভা থেকে তাঁর গলায় শোনা গেল এক নজিরবিহীন সুর। সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে তিনি জানালেন, তৃণমূলকে ভোট না দিলে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর কোনও ‘সম্পর্ক’ রাখবেন না। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি মালদহের মানুষের ওপর ভরসা হারিয়ে এখন আবেগের মোড়কে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

মালতিপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “তৃণমূলকে ভোটটা দেবেন। অন্য দলকে ভোট দিলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখব না। উন্নয়ন চলবে। তবে আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। আমি অসম্মানিত বোধ করব।” শুধু তাই নয়, কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়াকে ‘অর্থহীন’ বলে দাবি করে তিনি সাফ জানান, একটি আসন নিয়ে ওরা সরকার গড়তে পারবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন “ভোট না দিলে সম্পর্ক রাখব না”, তখন তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে মনে হতে পারে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী গোটা রাজ্যের, কেবল একটি দলের নন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি উন্নয়নের বিনিময়ে আনুগত্য দাবি করছেন তিনি? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি আসলে হারের ভয় থেকে আসা হতাশা। উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে ভোট টানতে ব্যর্থ হয়েই এখন ‘আবেগ’ বা ‘সেন্টিমেন্টাল’ কার্ড খেলছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মরিয়া আচরণের নেপথ্যে রয়েছে মালদহ জেলায় তৃণমূলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিসংখ্যান: ২০১৯ এর লোকসভায় মালদহের দুটি আসনেই (মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণ) তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিল। মালদহ উত্তরে জয়ী হয়েছিল বিজেপি এবং দক্ষিণে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। তৃণমূল এখানে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল জেলায় বেশ কিছু আসন পেলেও মালতিপুরের মত অনেক এলাকায় তাদের জয়ের ব্যবধান নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় ছিল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে কংগ্রেস ও বামেদের উপস্থিতিতে তৃণমূলের আধিপত্য যে চ্যালেঞ্জের মুখে, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।

মালতিপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসলে বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রোখার একটি মরিয়া চেষ্টা। তিনি ভালোই জানেন, মালদহে বিজেপি যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনই কংগ্রেসের একটি নিশ্চিত ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূলের নৌকা টলমল। তাই ‘উন্নয়ন চলবে’ বললেও, ‘সম্পর্ক থাকবে না’ বলার মাধ্যমে তিনি আদতে ভোটারদের মানসিকভাবে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।একজন জননেত্রী যখন পরাজয়ের আশঙ্কায় ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে পায়ের তলার মাটি ক্রমেই আলগা হচ্ছে। মালদহের সচেতন মানুষ ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।