প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সম্প্রতি খাস কলকাতার বুকে নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচি করছেন। কিন্তু তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কি তার সেখানে যাওয়া কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না? তিনি দিল্লি যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্মসূচি করতে যেতে পারেন। কিন্তু এত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও খাস কলকাতার বুকে তিনি কেন এই এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্তনা দিতে পর্যন্ত পারলেন না, এই প্রশ্ন এতদিন তুলতে শুরু করেছিল বিরোধীরা। আর আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহু বাধা সত্ত্বেও বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে সেই নাজিরাবাদে পৌঁছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
একসময় এই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন, তখন যেখানেই মানুষ বিপদে পড়তেন, সেখানেই তিনি পৌঁছে যেতেন। এমনকি খরা হোক বা বন্যা, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সমবেদনা দিতে দেখা যেত তাকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই কি সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে যায়? যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষ ভরসা করে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও কেন এলাকায় পৌঁছে গেলেন না? এটা যদি অন্য কোনো জায়গা হতো, তাহলে হয়ত তার পৌঁছে যেতে সময় লাগতো। সেক্ষেত্রে হয়ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা যুক্তি দেওয়া যেত। কিন্তু খাস কলকাতার বুকে যখন তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে এত বড় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর সেই্খানে পৌঁছে যাওয়াটা যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিলো, সেই কথা সকলেই বলতে শুরু করেছেন। আর আজ নাজিরাবাদে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও চাপে ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
সূত্রের খবর, কিছুক্ষণ আগেই ১৬৩ ধারা থাকলেও বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে নাজিরাবাদে পৌঁছে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “এখানে মৃত্যু মিছিল, মুখ্যমন্ত্রী আসেননি। ওনার বাড়ি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। ওনার আসা উচিত ছিলো। উনি রাজ্যের প্রশাসনিক কর্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচিত কথাই বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তো রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এত বড় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেল, এতজন মানুষ স্বজন হারানোর ব্যথায় কাতর হয়ে রয়েছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছে গেলে কি খুব ক্ষতি হতো? তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন। কিন্তু স্বজন হারা মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যদি সান্ত্বনা দিতেন, তাহলে তো তারা অনেকটাই বল পেতেন। কিন্তু সেই কাজ কেন মুখ্যমন্ত্রী করতে পারলেন না? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।