প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা মানচিত্রে এবার এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার কি সরাসরি দুর্নীতির খাঁচায় বন্দি হতে চলেছেন একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হেভিওয়েট’ উপাচার্যরা? রাজ্যের নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দেওয়া চরম হুঁশিয়ারি ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জেল যাওয়া দেখেছেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উপাচার্যের জেল যাওয়া দেখেননি। প্রেসিডেন্সি বা দমদমে কোনও উপাচার্যকে দেখলে অবাক হবেন না।”
মন্ত্রীর এই একটি মন্তব্যেই স্পষ্ট যে, বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় উচ্চশিক্ষা স্তরে যে ব্যাপক দুর্নীতির জাল বিছানো ছিল, এবার তা সমূলে উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে এবার শুধু বিচ্ছিন্ন কোনও পদক্ষেপ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে অপরাধে যুক্ত একাধিক উপাচার্যকে শ্রীঘরে পাঠানোর একটি সর্বাত্মক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’মাসের মাথায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় যে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন, তা এর আগে বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে দেখা যায়নি। তাঁর লক্ষ্য মূলত দুটি। কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যারা অযোগ্যদের চাকরি দিয়েছেন বা আর্থিক তছরুপ করেছেন, তাঁদের আর রেয়াত করা হবে না। মন্ত্রী যেভাবে সরাসরি প্রেসিডেন্সি জেল ও দমদম সেন্ট্রাল জেলের নাম উল্লেখ করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত উপাচার্যের ফাইল ইতিমধ্যেই মন্ত্রকের টেবিলে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
শুধুমাত্র জেলযাত্রা নয়, বাংলার উচ্চশিক্ষার ভেঙে পড়া মেরুদণ্ড সোজা করতে একগুচ্ছ বৈপ্লবিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের ব্লু-প্রিন্ট সামনে এনেছেন নতুন মন্ত্রী। রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় স্তরের সমকক্ষ করতে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) সম্পূর্ণ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা দপ্তরে এবার থেকে কোনওরকম লবি বা টাকা ছাড়া, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে প্রতি বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে। দীর্ঘ দেড় দশক পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সাথে পর্যালোচনা বৈঠক সারলেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী। কেন্দ্রীয় অনুদান ও পরিকাঠামো ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র-রাজ্য ডাবল ইঞ্জিন সমন্বয়কে কাজে লাগানো হবে। দ্বাদশ শ্রেণীর পর বাংলার প্রথম সারির পড়ুয়ারা যাতে বাইরে চলে না যায় (ব্রেন ড্রেন রোধ), তার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে এক বিরাট ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এতদিন যারা ক্ষমতার অলিন্দে থেকে শিক্ষার অবক্ষয় ঘটিয়েছেন, তাঁদের ঘুম উড়েছে মন্ত্রীর এই একটি হুঙ্কারে। আগামী দিনগুলিতে বাংলার কোন কোন হাইপ্রোফাইল উপাচার্যকে জেলের গরাদের ওপারে দেখা যাবে, সেটাই এখন দেখার সবচেয়ে বড় বিষয়।