প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে কে কী বলছেন বা কী কাজ হচ্ছে, তা এবার সরাসরি দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে খাতা-কলমের পুরোনো জমানা পেরিয়ে এবার সম্পূর্ণ ‘কাগজহীন’ বা পেপারলেস ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে রাজ্যের আইনসভা। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ১৮তম বিধানসভার নতুন বিধায়কদের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অধিবেশন থেকে এই যুগান্তকারী সংস্কারের সওয়াল করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে তিনি স্পিকারের কাছে বিশেষ আর্জিও জানান।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিধানসভার অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দূরদর্শন বা ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে বিধানসভার ভেতরের সমস্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, এর ফলে একদিকে যেমন আইনসভার ভেতর জনপ্রতিনিধিদের কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও জানতে পারবেন তাঁদের নির্বাচিত বিধায়করা এলাকার সমস্যা নিয়ে বিধানসভায় কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান টেকনিক্যাল সেশনই হলো National E-Vidhan Application (NeVA) বা ডিজিটাল বিধানসভা অ্যাপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকেও শতভাগ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিধায়করা এখন হাতের মুঠোয়, অর্থাৎ একটি মাত্র ক্লিকের মাধ্যমেই বিধানসভার সমস্ত বিল, নোটিশ, প্রশ্নোত্তর এবং নথিপত্র ডিজিটাল ফর্মে পেয়ে যাবেন। কাগজের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং গতিশীল শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের এই ডিজিটাল রূপান্তরের রূপরেখাটি চূড়ান্ত উৎসাহ পায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভাকে পুরোপুরি হাইটেক এবং লাইভ করার এই উদ্যোগ বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।