প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ও পিএম-শ্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণে বিকাশ ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শিক্ষাকে কোনোভাবেই ব্যবসার সামগ্রী বা পণ্য হতে দেওয়া হবে না। সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ক্ষেত্রের শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে আনাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে সমস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সরকারি অনুমোদন (NOC) পেয়েছে, তাদের পরিকাঠামো এবং ফি-র কাঠামো খতিয়ে দেখতে আচমকা পরিদর্শন (Inspection) করা হবে। নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হলে সেই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবীকরণ করা হবে না। পাশাপাশি, বর্তমানে নতুন কোনো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য NOC দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে।
বিগত তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির কিছু নিয়ম না মানার কারণে বাংলার স্কুলগুলির জন্য বরাদ্দ ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ আটকে ছিল। রাজ্য সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) এবং পিএম-শ্রী (PM-SHRI) প্রকল্পের অধীনে আসায় সেই জটিলতা কেটে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বকেয়া কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য রাজ্যে আসতে শুরু করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে স্কুল শিক্ষার পরিকাঠামোয় একাধিক সংস্কার দৃশ্যমান হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্নার ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইস্কন (ISKCON)-কে। কাঠ বা কয়লার বদলে এখন থেকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করতে হবে। এছাড়া, মিড-ডে মিলের রান্নার খরচ বাবদ পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ একলাফে ১০ টাকা করা হচ্ছে, যার বাড়তি খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। একই সাথে স্কুলগুলিতে সোলার প্যানেল ও স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কাজ শুরু হবে।
শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও আইনি জটমুক্ত করতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলা রাজ্য তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, স্কুল পরিচালন কমিটিতে (SMC) রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার থেকে কমিটির শীর্ষ পদে কোনো রাজনৈতিক নেতার বদলে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে দ্রুত বিধানসভায় নতুন বিল আনা হবে বলে জানা গেছে। স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে জেলা শিক্ষা পরিদর্শকদের (DI) নিয়মিত ফিল্ড ভিজিট করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।