প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হারানোর পরেও কি টনক নড়বে প্রাক্তন শাসকদলের? নাকি অহংকারের চোরাবালিতে দাঁড়িয়েই তারা বিগত বছরগুলিতে ধ্বংস করে দিয়ে গেল বাংলার মেরুদণ্ডকে? আজ, বুধবার দুপুরে বিকাশ ভবনের চেয়ারে বসেই সেই সত্যটাই সজোরে রাজ্যবাসীর সামনে টেনে আনলেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর যে পরিমাণ পরিকল্পিত আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে, তার নজির ইতিহাসে নেই। কেন্দ্রকে এড়িয়ে একলা চলার যে আত্মঘাতী এবং জেদি রাজনীতি প্রাক্তন শাসকদল করে গিয়েছে, তাকে স্পষ্ট ভাষায় ‘দুঃসাহস’ বলে তোপ দেগেছেন মন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই আক্রমণ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তথ্যভিত্তিক।

আজ দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রের সাথে সহযোগিতা না করে, স্রেফ রাজনৈতিক ইগোর কারণে দিল্লির দেওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও সাহায্যকে এতদিন আটকে রাখা হয়েছিল। মন্ত্রীমশাই আজ তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া রাজ্যকে একা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে অহংকার বিগত দিনে দেখানো হয়েছে, দেশের কোনো বিরোধী শাসিত রাজ্য, এমনকি কেরালাও সেই দুঃসাহস দেখানোর কথা ভাবেনি! এই জেদের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলার লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রী এবং চাকরিপ্রার্থীদের, যাঁদের ভবিষ্যৎ স্রেফ অন্ধ রাজনীতির যাতাকলে পিষে দেওয়া হয়েছে।নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য আসলে বিগত জমানার সেই নীতিহীন একরোখামির দিকেই আঙুল তোলে, যেখানে দিল্লির বিরোধিতা করতে গিয়ে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রকে দেশের মূল স্রোত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। দিনের পর দিন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা কেন্দ্রের গাইডলাইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার ফলে বাংলা শিক্ষায় কতটা পিছিয়ে গিয়েছে, তা আজ আর কারও অজানা নয়।

আজ বিকাশ ভবনে দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো একনায়কতন্ত্র বা জেদের রাজনীতি নয়, এবার থেকে শিক্ষাদপ্তর চলবে একটি দায়বদ্ধ ‘টিম’ হিসেবে, যেখানে দেশের মূল স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাকে আবার শিক্ষার শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যাভয়াই হবে একমাত্র লক্ষ্য। মন্ত্রীর এই কড়া ও যুক্তিপূর্ণ বার্তা বুঝিয়ে দিল, বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে অন্ধকার ও অহংকারের দিন এবার সত্যিই শেষ হতে চলেছে।