প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং দেশের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড় ফেলে দেওয়া খবর! খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফ থেকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাই-প্রোফাইল নৈশভোজে যোগ দেওয়ার জন্য জরুরি ডাক পেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) বেলার দিকেই তড়িঘড়ি কলকাতার দমদম বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে আজ থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (18th BRICS Summit) উপলক্ষ্যে আজ রাতে এই মেগা ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর সেখানেই আমন্ত্রিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।হঠাৎ কেন এই আমন্ত্রণ? কী রয়েছে নেপথ্যে? দিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্বনেতাদের এই হাই-প্রোফাইল নৈশভোজে কেবল শুভেন্দু অধিকারীই নন, দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক হেভিওয়েট রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো ও রাজ্য স্তরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলে ধরতেই কেন্দ্র সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লিযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক বিরাট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী খুব শীঘ্রই বাণিজ্য নগরী মুম্বই সফরে যাচ্ছেন। সেখানে রিলায়েন্সস্পতি বা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ নিয়ে আসা।

শুধু তাই নয়, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত ২,০০০ বেডের মেগা হাসপাতাল প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্বয়ং গৌতম আদানির সাথেও তাঁর মঞ্চ ভাগ করার কথা রয়েছে। ফলে, একদিকে নবান্নে উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিদের সঙ্গে ওয়ান-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের পর এবার আন্তর্জাতিক স্তরে ব্রিকসের এই ডিনারে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে বাংলার অর্থনৈতিক ভোল বদলে দিতে এক বিশাল ছক কষেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।