প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সম্প্রতি রাজ্য বাজেট হয়েছে। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনামাফিক যুবসাথী নামে একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে সেই প্রকল্প আগামী ১৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন যে, না, এটা ১৫ আগস্ট থেকে নয়, এটা পয়লা এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে। আর তার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে প্রত্যেকটি বিধানসভায় দুয়ারে সরকারের মতো ক্যাম্প করে আবেদন পত্র জমা নেবে সরকার। কিন্তু যেদিন এই যুবসাথী নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা রাজ্য করেছিল, সেদিনই তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুবশ্রী নামে যে প্রকল্পের চালু হয়েছিল, তার খবর কি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ মুখ্যমন্ত্রীর এই ক্যাম্প করে বেকার যুবকদের ভোট নেওয়ার যে চেষ্টা এবং যেভাবে তড়িঘড়ি আগস্টের অপেক্ষা না করে পয়লা এপ্রিল থেকে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢোকানো হবে বলে জানিয়ে দিলেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, তাতে অতীতের সেই যুবশ্রীর কথা টেনে রাজ্যের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিরোধীরা দাবি করছেন, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছেন, এবার তার বিদায় নেওয়ার সময় চলে এসেছে। ক্ষমতা থেকে তিনি এবার চলে যাবেন। আর তার পেছনে মূল কারণ যে, এই রাজ্যের বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি না পাওয়া, সেই খবর তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আর সেই জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন যুবসাথী প্রকল্পের নামে নতুন এক ঢপের চপ এনে রাজ্যের যুব সমাজের মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ঘোষণার দিনেই কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ আবার ১৫ আগস্ট থেকে নয়, বরঞ্চ পয়লা এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্পের টাকা বেকারদের দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর সেই বিষয়েই পাল্টা যুবশ্রী প্রকল্পের ইতিহাসের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর ঘুম উড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী একটু আগে প্রেস করে বলেছেন, ১৫ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত তিনি ক্যাম্প করবেন, যুবসাথীর আবেদন নেওয়ার জন্য। এটাও এক ধরনের প্রতারণা। উচ্চশিক্ষিত যুবকদের দৈনিক ৫০ টাকা করে দেওয়া। ২০১৩ সালে বাজেটে যুব উৎসাহ প্রকল্প এসেছিল। মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইনডোরে উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছিলেন যুবশ্রী তিনি বলেছিলেন যে, ১৭ লক্ষ আবেদন করেছে। তার মধ্যে ১ লক্ষকে দেওয়ার কাজ শুরু হবে। তারপর ধাপে ধাপে তারা চাকরি পেয়ে গেলে আবার পরবর্তীতে অন্যান্যদের দেওয়া হবে। ১৩ থেকে ১৬ পর্যন্ত এটা থাকলেও ১৭-১৮ অর্থবর্ষ থেকে ২৫-২৬ পর্যন্ত যুবশ্রী প্রকল্প বলে কিছু নেই। তুলে দেওয়া হয়েছে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। দুই বছর চালিয়ে আপনি সেটা বন্ধ করে দিয়েছেন।”