প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতার তারাতলা অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গোডাউন ধসের ঘটনার পর এবার তড়িঘড়ি নজিরবিহীন অ্যাকশন নিল রাজ্য প্রশাসন। মহানগরে একের পর এক বেআইনি ও নিম্নমানের বহুতল নির্মাণ রুখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় ঘোষণা করল নবান্ন। পূর্ব নির্দেশিকা অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ৩১ জুলাই পর্যন্ত জারি ছিল, তার মেয়াদ এবার আরও বাড়িয়ে আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই আচমকা সিদ্ধান্তে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের আবাসন শিল্প ও প্রোমোটার মহলে কার্যত ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই বর্ধিত স্থগিতাদেশের কোপ সরাসরি পড়তে চলেছে বড় প্রজেক্টগুলির ওপর। G+5 (গ্রাউন্ড প্লাস ফাইভ) অর্থাৎ ছয় তলা বা তার বেশি উচ্চতার যে সমস্ত বহুতল ভবনের কাজ শহরে চলছিল, সেগুলির নির্মাণ কাজ আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্তব্ধ রাখতে হবে। নির্দেশ অমান্য করে কোথাও কাজ চালানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার ও সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ ও পুর প্রশাসন।
তারাতলার দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, সঠিক সয়েল টেস্টিং (মাটি পরীক্ষা) না করে এবং বিল্ডিং প্ল্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ইমারত খাড়া করা হচ্ছিল। নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ১৫ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে: শহরের সমস্ত আন্ডার-কনস্ট্রাকশন (নির্মীয়মাণ) বড় প্রজেক্টগুলির নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত অডিট (Safety Audit) করা হবে।পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও পুলিশের যৌথ দল বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাটির ধারণক্ষমতা ও প্ল্যান স্ক্রিনিং করবে।
বেআইনি নির্মাণের সাথে যুক্ত ‘সিন্ডিকেট চক্র’ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের চিহ্নিত করার কাজ চালানো হবে। নিরাপত্তা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না ভেবে, সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।