প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-৯৩-এর ২১ জুলাইয়ের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার নেপথ্যে আসল সত্যিটা ঠিক কী ছিল? কেন এত বছর ধরে ধোঁয়াশায় রাখা হলো বাংলার মানুষকে? সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রায় ৭০০ পাতার তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন, যা শুনে চক্ষু চড়কগাছ রাজনৈতিক মহলের।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভার মঞ্চ থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই বিচারবিভাগীয় কমিশন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত, বিমান বসু, সৌগত রায় এবং মদন মিত্রসহ মোট ৪৪ জন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডেকেছিল। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, যিনি নিজেকে ওই আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারি, চালিকাশক্তি এবং ২১ জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় সাক্ষী বলে দাবি করেন—অর্থাৎ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—তাঁকে এই কমিশন একটা বারের জন্যও ডাকেনি!

মুখ্যমন্ত্রী এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কমিশনকে বলে দিয়েছিলেন যে তাঁকে যেন না ডাকা হয়।” রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, আন্দোলনের নেত্রী এবং সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি কমিশনের মুখোমুখি হতে চাইলেন না? কোন সত্য লুকিয়ে রাখার জন্য এই ধামাচাপা?

মুখ্যমন্ত্রী এদিন কমিশনের রিপোর্টের একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ও আইনি গাফিলতি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী যেভাবে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল, তা মোটেও হয়নি। তৎকালীন পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি রহস্যজনকভাবে ফাইল থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি রাইটার্স বিল্ডিংস (মহাকরণ) থেকেও ২১ জুলাই সংক্রান্ত বহু মূল নথি হারিয়ে গিয়েছে!

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সোজাসাপ্টা অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী যাতে কোনোভাবে ফেঁসে না যান, সেই কারণেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত তথ্য গোপন করেছিলেন। কমিশন নিজেই মনে করেছে যে, মহাকরণ দখল করার যে যুক্তি তৎকালীন বাম সরকার দিয়েছিল, তা ধোপেই টেকে না, কারণ মহাকরণ থেকে বহু দূরে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল এবং সেই গুলিচালনার কোনো যথার্থ কারণই ছিল না।

বিগত সরকারের আমলে ২১ জুলাইয়ের শহিদদের নাম করে শুধু রাজনীতিই করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হয়েছে বলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাইটার্স থেকে ফাইল হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কী ষড়যন্ত্র ছিল, তার জন্য নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন আছে। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, ওই দিনের ঘটনায় যাঁরা প্রকৃত বিচার পাননি বা যাঁরা মনে করেন সত্য গোপন করা হয়েছে, তাঁরা চাইলে এখন নতুন করে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ২১ জুলাইয়ের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের অফিশিয়াল ফাইল খুলে সরাসরি আক্রমণ শানানো হলো। শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আইনি ও তথ্যভিত্তিক বিস্ফোরণ বিরোধী শিবিরের অস্বস্তি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।