প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন-উত্তর বাংলায় রাজনৈতিক পারদ চড়ল বেনজিরভাবে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা ঐতিহাসিক ভাঙন এবার আছড়ে পড়ল দলের সবথেকে আবেগঘন দিন ‘২১ জুলাই’-এর শহিদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ করবে কে? এই নিয়ে এখন চরম দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে দুই শিবিরের মধ্যে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ (বিদ্রোহী শিবির)—উভয় পক্ষই ওই দিন, ওই একই জায়গায় সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছে। ফলে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়েছে লালবাজার।
বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেছেন, তাঁদের গোষ্ঠীই হলো ‘আসল তৃণমূল’। সম্প্রতি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ঋতব্রত বাবু। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিগত বছরগুলির মতো এবারও ধর্মতলাতেই সাড়ম্বরে শহিদ দিবস পালন করবে তাঁর শিবির। এই মর্মে কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে (CP) চিঠি দিয়ে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের চত্বরটি বুক করার আবেদন জানিয়েছে ঋতব্রত তৃণমূল। এই চিঠি জমা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসে কালীঘাট শিবির। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দলের এই আবেগের মঞ্চ হাতছাড়া করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকেও তড়িঘড়ি কলকাতা পুলিশকে পাল্টা চিঠি দিয়ে ওই একই স্থানে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
দলের এই অভূতপূর্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, পুলিশের অনুমতি মিললে আগের নিয়মেই ধর্মতলায় শহিদ স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। আইনি জট বা অন্য কোনও বাধা আসলেও তাঁরা পিছু হটবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “যদি পাঁচজন কর্মীও থাকে, তাও আমরা ২১ জুলাই ধর্মতলাতেই যাব।”
রাজনৈতিক এই দড়ি টানাটানি কেবল চিঠিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে আইনি জটিলতাতেও। অনুমতি ছাড়া এবং দল ভাঙার পর কীভাবে ঋতব্রত শিবির ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করে পুলিশকে চিঠি লেখে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট শিবির। এই মর্মে কালীঘাট শিবিরের সাংসদ দোলা সেন ইতিমধ্যেই নিউ টাউন থানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির অভিযোগে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন।
একই দিনে, একই সময়ে এবং একই স্থানে দুই বিবদমান রাজনৈতিক শিবিরের সভার আবেদন জমা পড়ায় তীব্র আইনি ও আইন-শৃঙ্খলগত সংকটে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চ কার দখলে যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ এবং কোন পক্ষ সাধারণ কর্মীদের কাছে আসল ‘তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এখন শেষ পর্যন্ত লালবাজার কাকে ধর্মতলার সবুজ সংকেত দেয়, কিংবা বিষয়টি আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।