প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক যুগের সূচনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের হাত ধরে এবার রাজ্যের আরও ৩টি জেলায় চালু হতে চলেছে নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার এবং পশ্চিম বর্ধমান (আসানসোল)— এই তিন জেলায় ১০০টি করে এমবিবিএস (MBBS) আসন-সহ ৩টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রাথমিক সরকারি প্রক্রিয়া ও জমি খোঁজার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মেডিক্যাল কলেজ” গড়ার যে দূরদর্শী স্বপ্ন রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সদিচ্ছায় এ রাজ্যে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর একক তৎপরতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই নতুন মেডিক্যাল কলেজগুলির মাধ্যমে বাংলার সাধারণ মানুষের ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা ও পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সবুজ সংকেত মেলার পর পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড (WBMSCL) সংশ্লিষ্ট তিন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) দ্রুত জমি চিহ্নিতকরণের নির্দেশ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনে এই তিনটি মেডিক্যাল কলেজের প্রতিটিতেই প্রাথমিকভাবে ১০০টি করে এমবিবিএস আসন থাকবে। জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজ, শিক্ষণ হাসপাতাল এবং পড়ুয়া-ইন্টার্নদের হোস্টেল একই চত্বরে হতে হবে। এক জায়গায় পর্যাপ্ত জমি না মিললে, সর্বোচ্চ দুটি ক্যাম্পাসে তা করা যেতে পারে, তবে তাদের মধ্যকার দূরত্ব কোনোভাবেই ১০ কিলোমিটারের বেশি হওয়া চলবে না। এই মর্মে তিন জেলার জেলা প্রশাসনকে দ্রুত বিবাদমুক্ত জমি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারা উপকৃত হবেন? দক্ষিণ দিনাজপুর (বালুরঘাট): জেলার প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন গুরুতর রোগীদের ১২০ কিলোমিটার দূরে মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে হতো। এখন থেকে ঘরের কাছেই মিলবে সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা।আলিপুরদুয়ার: ডুয়ার্স ও সীমান্তবর্তী এই জেলার নিজস্ব উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফলে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার ভোল বদলে যাবে। পশ্চিম বর্ধমান (আসানসোল): শিল্পাঞ্চলের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ঘরের মাঠেই ডাক্তারি পড়ার পথ প্রশস্ত হবে, যা স্থানীয় যুব সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
জেলাগুলি থেকে জমির ‘ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (DPR) চূড়ান্ত হলেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য পাঠানো হবে। শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমুখী দূরদর্শিতা ও মোদী সরকারের ডবল ইঞ্জিন ভাবনার ফলেই আজ বাংলার তিন জেলার লক্ষাধিক মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার এক নতুন সোনালী যুগের মুখ দেখতে চলেছেন।