প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে নতুন সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই সামনে এল ক্ষয়ে যাওয়া ‘কালীঘাট পন্থী’দের ভোলবদলের চতুর রাজনীতি। জনগণের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন চারিদিকে তাঁদের পায়ের তলার মাটি সরছে, ঠিক তখনই হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে নতুন জমানার ওপর চাপ তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা শুরু করলেন কুণাল ঘোষরা। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক দাবি করেন, রাজ্যের হকার সমস্যা নিয়ে নাকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং নতুন সরকার আর বুলডোজার চালাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অতীতে নিজেদের জমানায় যখন কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকারদের ওপর লাগাতার জুলুম চলেছে, তখন নীরব থাকা এই নেতারা এখন ক্ষমতা হারিয়েই রাতারাতি ‘হকার দরদী’ সেজে সস্তা রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ হকারদের রুজি-রুটির কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁরা হকারদের উচ্ছেদ ও বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তবে বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, নতুন সরকার রাজ্যে আইনের শাসন কায়েম করতে এসেছে, কোনো গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা সরকারের লক্ষ্য নয়। অথচ কুণাল ঘোষরা এমনভাবে বিষয়টি প্রচার করছেন যেন তাঁদের আর্জিতেই নতুন সরকার বুলডোজার চালানো বন্ধ করেছে! বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, নিজেদের জমানার বেআইনি কারবার এবং ফুটপাত দখলের যে সিন্ডিকেট রাজ রাজ্যে চলত, আইনের চাপে এখন তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ভয়েই এই ছটফটানি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য রাজধর্ম মেনে তাঁদের কথা শুনেছেন এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
হকার ইস্যুর পাশাপাশি এদিন কুণাল ঘোষের মুখে শোনা গেছে এক নজিরবিহীন সুর নরমের বার্তা। রাজ্যে সদ্য গঠিত হওয়া নতুন সরকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, একটি নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে মমতা শিবির গতকাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের প্রতি পদে বিরোধিতা করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত, আজ তাঁদের মুখেই ‘সরকারকে সময় দেওয়ার’ এই সুর আদতে নিজেদের চরম অসহায়তা ও আত্মসমর্পণেরই নামান্তর। ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হওয়ার পর বিধানসভার ভেতরে টিকে থাকতেই এখন বিরোধিতার সুর নরম করতে বাধ্য হচ্ছেন মমতাপন্থী বিধায়করা।
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা, জনতা যাঁদের ক্ষমতা থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, তাঁরা এখন হকারদের কাঁধে বন্দুক রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছেন। বিজেপি শিবিরের দাবি, রাজ্যে এখন সুশাসন চলছে, তাই কোনো হকারকে নিয়ে সস্তা রাজনীতির ঘুঁটি সাজিয়ে লাভ হবে না। শেষ পর্যন্ত নতুন সরকারের কাজের গতির সামনে পিছু হটে সুর নরম করাই এখন কুণালদের একমাত্র ভবিতব্য।