প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা। তার ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে গণনাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। গণনাকর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করে দায়ের করা তৃণমূল কংগ্রেসের মামলাটি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সরাসরি খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, প্রতি গণনাকেন্দ্রের ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার’ এবং ‘কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী অথবা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীদের রাখা হবে। তৃণমূলের তরফে সিনিয়র অ্যাডভোকেট কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগ করার এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের শামিল এবং এটি আইনসম্মত নয়।

তৃণমূলের দাবি ছিল, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা গণনার সময় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করতে পারেন। কেন শুধুমাত্র তাঁদেরই নিয়োগ করা হবে এবং কেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হবে, সেই প্রশ্ন তুলে মামলা দায়ের করা হয়।

উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন: কাকে গণনাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হবে, তা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এতে কোনো বেআইনি কিছু নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, গণনাকক্ষে শুধুমাত্র সুপারভাইজার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকেন না। সেখানে মাইক্রো-অবজারভার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলির কাউন্টিং এজেন্টরাও উপস্থিত থাকেন। ফলে কোনো একক গোষ্ঠীর পক্ষে গণনা প্রভাবিত করা প্রায় অসম্ভব।

কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ থাকবে—তৃণমূলের এই অভিযোগকে ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে খারিজ করে দেয় আদালত। আদালতের এই রায়ের পর ৪ তারিখের গণনা প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। কমিশন তাদের পরিকল্পনা মতোই কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়ে গণনার কাজ পরিচালনা করবে। এই রায়ের ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর আদালতের সিলমোহর পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন দেখার, ৪ মে ইভিএম খোলার পর বাংলার মসনদ কার দখলে যায়।