প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরকে কেন্দ্র করে যতদূর জল গড়িয়েছে, তা আর অন্য কোনো রাজ্যে হতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। কিন্তু কোথাও এত জটিলতা নজরে আসেনি। আসলে এই রাজ্যের যে প্রশাসন রয়েছে, তারা চাইছে, কোনোভাবেই যাতে অবৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। আর সেই কারণেই বিভিন্ন রকম চেষ্টা করে তারা ভন্ডুল করার চক্রান্ত করছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। আর এই পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাইয়ের কাজে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিচার বিভাগকে কাজে নামানোর কথা বলা হয়। সেই মত জেলায় জেলায় চলছে এই কাজ। তবে এই রাজ্যের যত জন বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বা বিচারকদের এই কাজে লাগানো হয়েছে, দ্রুত শেষ করতে গেলে এই সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিলো যে, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ভিন রাজ্য থেকেও বিচারক আনতে হবে। আর অবশেষে রাজ্যে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের কাজে এবার সেই ভিন রাজ্য থেকেই আসতে চলেছেন প্রায় ২০০ জন বিচারক।

এই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হতো। কিন্তু প্রথম থেকেই যেভাবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। যার ফলে আদালতের পক্ষ থেকে এই তথ্যগত সংগতি পরিপ্রেক্ষিতে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখানে রাজ্যের প্রায় ২৭০ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে গেলে যে আরও অনেকের প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যে, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড এবং ওড়িশা থেকেও জুডিশিয়াল অফিসারদের এই কাজে লাগাতে হবে। আর অবশেষে সেটাই হতে চলেছে।

সূত্রের খবর, গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। আর সেখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ড থেকে প্রায় ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই রাজ্যে আসছেন। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশ ছিলো যে, প্রয়োজন হলে ভিন রাজ্য থেকেও বিচারকদের নিয়ে আসা হতে পারে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবার সেই ভিন রাজ্য থেকেই বাংলায় এসআইআরের তথ্যগত অসংগতির ক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের জন্য আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার আসছেন বলেই খবর।