প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে যে কর্মসূচিতেই যাচ্ছেন, সেখানেই তিনি এখন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। অতীতে তাকে মানুষ অগ্নিকন্যা বলে সম্বোধন করতেন। কিন্তু মানুষের ভরসার জায়গায় যে তিনি আর নেই, তা প্রতি মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন, এসআইআরের বিরুদ্ধে ধর্না করে তিনি মানুষের মন জয় করে দেবেন। কিন্তু তার সরকারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ জনতার মধ্যে রয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষও খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন যে, এসআইআরের কতটা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু এই রাজ্যের শাসক দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় রেখে দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসতে। তাই তিনি এসআইআরের যতই বিরোধিতা করুন না কেন, সাধারণ মানুষ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্নাতে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তা হয়ত তৃণমূলও খুব ভালো মতই বুঝতে পারছে। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। আর মুখ্যমন্ত্রী আজকে যে ধর্না দিচ্ছেন, সেখানেও ঘটে গেল বড়সড় বিপত্তি। যা নিঃসন্দেহে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কপালে বড় চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন। যেখানে এসআইআরে এত মানুষের নাম কাটা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই নাকি তিনি এই ধর্না করবেন বলে খবর। তবে মুখ্যমন্ত্রী যখন এই ধর্না কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন, ঠিক তখনই হঠাৎ করে পার্শ্বশিক্ষকদের যে সংগঠন এতদিন বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে অবস্থানে বসেছিলেন, তারা সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে চলে আসেন। একেবারে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না মঞ্চের সামনে প্ল্যাকার্ড হতে তারা তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলতে শুরু করেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই গোটা ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনিতেই তিনি বিরোধিতা সহ্য করতে পারেন না। আর তার ধর্না মঞ্চ যখন অন্যভাবে তিনি মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন, তখন একেবারে পার্শ্বশিক্ষকদের এই সংগঠন হাঁটে হাড়ি ভেঙে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী যে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন, তা তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল বিশেষজ্ঞদের কাছে। আর তারপরেই মঞ্চ থেকে যারা এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না মঞ্চের সামনে পার্শ্বশিক্ষকদের যে সংগঠন, তাদের একটা অংশ এসে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আর তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে বলেন, “শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। এখানে রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এই সমস্ত কিছু করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না যে, যা কিছু তাই করা যাবে। যান, মোদীকে গিয়ে বলুন। অমিত শাহকে গিয়ে বলুন। ভ্যানিশ কুমারকে গিয়ে এইসব দেখান।” আর তারপরেই পুলিশ প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, যারা এই বিক্ষোভ করছে, তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী এক উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধর্না করছিলেন। কিন্তু প্রথম দিনেই যেভাবে এই রাজ্যের বঞ্চিত পার্শ্ব শিক্ষকরা সেই ধর্না মঞ্চের সামনে গিয়ে প্ল্যাকার হাতে বিক্ষোভ দেখালেন, তাতে প্রথম দিনেই ফ্লপ হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বলেই দাবি বিরোধীদের।