প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল যে দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো গোটা বাংলা, বলা ভালো গোটা ভারত, তা গণতন্ত্র এবং সংবিধানের পক্ষে এক কালো দিন হয়ে থাকবে. আর তার জন্য দায়ী যদি কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তার সরকার এবং তার প্রশাসন। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতি আসছেন, সেখানে সেই অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এত অসহযোগিতা কেন? রাজ্যের পক্ষ থেকে বারবার কেন স্থান বদল করা হয়েছে এই রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির? একটি জায়গায় বড় জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন অন্য একটি জায়গায় তাকে কর্মসূচি করানো হয়েছে? গতকাল উত্তরবঙ্গে সেই কর্মসূচি করার পর রাজ্যের বিরুদ্ধে রীতিমত অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আর রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যই বুঝিয়ে দিলো যে, তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমাকে লংঘন করে গিয়েছে। এরা দেশের সংবিধানকে রীতিমত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সবাইকে বিজেপি ভাবতে শুরু করেছে। আর সেই কারণেই বিজেপি নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অনুষ্ঠানে যেমন অসহযোগিতা করা হয়, ঠিক তেমনই দেশের সবথেকে শীর্ষ পদে যিনি রয়েছেন, সেই রাষ্ট্রপতিকেও চূড়ান্ত অসম্মান করা হলো এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে।

গতকাল উত্তরবঙ্গের একটি আদিবাসীদের সম্মেলনের অনুষ্ঠানে যোগদান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আর সেখানেই তিনি এই রাজ্যের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রথম কথা, দেশের রাষ্ট্রপতি আসলে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী বা ক্যাবিনেটের কোনো মন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু তারা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। যার ফলে আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল এই রাজ্য সরকারের রুচিবোধ নিয়ে। পাশাপাশি যেভাবে তার অনুষ্ঠানের জায়গা বদল করা হয়েছে, তা যে তিনি খুব একটা ভালোমত নিতে পারছেন না, সেই কথাও জানিয়ে দেন স্বয়ং দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, “মমতা আমার ছোট বোন। হয়তো রাগ করেছে। তাই ভাবলাম, নিজে গিয়ে দেখি। এখান থেকে যেখানে অনুষ্ঠান তা খুব দূরে। হয়ত ওরা চেয়েছিল, কেউ যেন না আসে। চেয়েছিলো, হয়ত রাষ্ট্রপতি এমনি ঘুরে চলে যাবে। ওরা বলেছিল, খুব সংকীর্ণ জায়গা। তাই দেখতে এলাম। এখানে তো বড় জায়গা। ৫ লক্ষ মানুষ আসতে পারতেন। জানি না, কেন আমাকে ওখানে নিয়ে গেল।”

আর যখন দেশের সংবিধানের একদম অন্যতম বড় স্তম্ভ রাষ্ট্রপতি, একটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত বড় কথা বলছেন, তখন এর থেকে আর লজ্জার কি হতে পারে সেই প্রশাসনের কাছে? এরপরেও কি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তার প্রশাসন দলদাসের মত আচরণ করে যাবেন? মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি উচিত ছিলো না, রাষ্ট্রপতি যখন রাজ্যে আসছেন, তখন তাকে স্বাগত জানানো? কিন্তু সেটা তো তিনি করলেনই না। উল্টে তার প্রশাসন যেভাবে সেই রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে বারবার করে স্থান বদল করলেন, তা কিন্তু খুব একটা সুখকর বার্তা বয়ে আনবে না এই রাজ্য প্রশাসনের জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে যদি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তখন এই রাজ্য প্রশাসন কি করবে? স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য গতকাল রেখে গেলেন, তাতে এই রাজ্যের প্রশাসন, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এই রাজ্যের শাসক দলের ভাবমূর্তি আরও কালিমালিপ্ত হয়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।