প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ এর মহাযুদ্ধের শুরুতেই মালদার রাজনীতিতে অগ্নিকান্ড। হরিশ্চন্দ্রপুরের দাপুটে বিধায়ক তথা রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন মুখ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই নতুন মুখ কে? তিনি হলেন মহম্মদ মতেবুর রহমান, যিনি গত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়া মন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি, “দল আমার সাথে বেইমানি করেছে, আমার সাজানো বাগান অন্যকে দিয়ে দেওয়া হলো।”

এখন প্রশ্ন উঠছে, মমতার ‘ভুল’ চালে কি কপাল খুললো বিজেপির? কেননা এখানকার রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, তৃণমূলের এই ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের তাজমুল হোসেন ১,২২,৫২৭ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জিতেছিলেন। অথচ সেই নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, এই মহম্মদ মতেবুর রহমানই। আজ সেই ‘বিজেপি-প্রত্যাখ্যাত’ নেতার ওপর ভরসা করায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেই বিদ্রোহ দানা বেঁধেছে। অন্যদিকে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূলের দুর্গ থরথর করে কেঁপে উঠেছিল। বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু এখান থেকে বড় অঙ্কের লিড পেয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে, মানুষ তৃণমূল থেকে মুখ ঘোরাতে শুরু করেছে।

এখন অনেকে বলতেই পারেন যে, এতে বিজেপির লাভে কেন সিলমোহর দেওয়া হচ্ছে? কারণ তাজমুল হোসেন এই এলাকার সংখ্যালঘু ভোটের বড় নিয়ন্ত্রক। তিনি যদি নির্দল হয়ে লড়েন বা তাঁর অনুগামীরা নিষ্ক্রিয় থাকেন, তবে তৃণমূলের ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের অন্তত অর্ধেক সরাসরি মাইনাস হবে। এই ভোট কাটাকাটির পূর্ণ সুযোগ নেবে বিজেপি। আর আদি তৃণমূল কর্মীরা কোনোভাবেই একজন প্রাক্তন বিজেপি নেতাকে মেনে নিতে পারছেন না। এ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠন এখন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ার মুখে। তাই লোকসভায় পাওয়া লিড এবং বর্তমান তৃণমূলের এই ‘গৃহযুদ্ধ’ একত্রিত হলে, হরিশ্চন্দ্রপুরে পদ্মফুল ফোটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির ফেলে দেওয়া ঘুঁটি দিয়ে কি আস্ত একটা বিধানসভা জেতা সম্ভব? মন্ত্রীর ‘অভিশাপ’ আর সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের বিসর্জন এবার স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এখন তৃণমূলের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি আদতে বিজেপির জন্য ‘ওয়াকওভার’? উত্তরের অপেক্ষায় ২০২৬-এর ব্যালট বাক্স।