প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
লড়াইটা শুরু হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের মাটিতে যা ঘটলো, তাকে এক কথায় ‘মমতার গড়ে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক’ বলছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল আশ্রিত গুণ্ডাবাহিনী নয়, সরাসরি পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন বিজেপি প্রার্থী তথা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রচারের মাঝেই তিনি সটান ঢুকে পড়েন ভবানীপুর থানায়।এদিন ভবানীপুরের একাধিক জায়গায় প্রচার সারছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই এলাকার অন্তত ২৭ জন বিজেপি কর্মীকে থানায় তলব করেছে পুলিশ।
শুভেন্দুর স্পষ্ট দাবি, এই পুলিশ কর্মীরা আইন রক্ষকের বদলে তৃণমূলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছেন। থানায় ডেকে বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং গেরুয়া শিবির ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দুর হুঙ্কার, “চমকাবেন না। যেখানে বাধা পাব গাড়ি ঘুরিয়ে আসব।” থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশের এই দাদাগিরি আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। একজন প্রার্থী হিসেবে তাঁকে শান্তিপূর্ণ প্রচার করতে দিতে হবে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের হুমকির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, পরিস্থিতি না বদলালে তিনি থানায় ধরণায় বসতে বাধ্য হবেন।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে পা রাখতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে তুঙ্গে। বিজেপি কর্মীরা যখন ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে এলাকা কম্পিত করছিলেন, তখন পাল্টা স্লোগান দিতে দেখা যায় তৃণমূল কর্মীদেরও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাসী মেজাজ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, লড়াই এবার সমানে-সমানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুকে দাঁড়িয়েও জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জনগণ এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে রায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুর থেকে তিনি অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। আল ভবানীপুরে শুভেন্দুর এই সক্রিয় উপস্থিতি এবং সরাসরি থানায় ঢুকে প্রতিবাদের ঘটনা শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতার আজকের এই রণংদেহি মূর্তি পরিষ্কার করে দিলো যে, আসন্ন নির্বাচনে প্রতি ইঞ্চি জমির জন্য কড়া টক্কর দিতে চলেছে বিজেপি।