প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির আকাশে আজ কালো মেঘের ঘনঘটা। যেখানে রূপনারায়ণের শান্ত জল কথা বলে, সেখানে আজ বারুদের গন্ধ। ২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের দামামা বাজতেই মহিষাদলের গড় এখন রণক্ষেত্র। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সুভাষ পাঞ্জার নাম ঘোষণা হতেই যেন এক লহমায় বদলে গেল মেদিনীপুরের মানচিত্র। আর এই রদবদল ঘিরেই শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ‘পুলিশি প্রীতি’, যা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য। এখন ফিরে দেখা যাক ২০২১-এর দিনগুলোয়। যখন ঘাসফুল আর পদ্মফুলের লড়াইয়ে মহিষাদল ছিল অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সেবার বিশ্বনাথ ব্যানার্জি ছিলেন গেরুয়া শিবিরের সেনাপতি। লড়াই ছিল শেয়ানে শেয়ানে। অতীতের সেই লড়াকু আবেগ আজও মহিষাদলের মানুষের মনে টাটকা। কিন্তু রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে সময় বহমান, আর সেই প্রবাহেই এবার সেনাপতি বদল করেছে বিজেপি। বর্তমান পরিস্থিতি যেন কোনও এক রোমাঞ্চকর থ্রিলারকেও হার মানায়। সুভাষ পাঞ্জার নাম ঘোষণা হতেই ‘অভিমানী’ বিশ্বনাথ যখন দল ছাড়ার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই আসরে নামল পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, মহিষাদল থানার ওসি সরাসরি ফোন করেছেন বিশ্বনাথ ব্যানার্জিকে। প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতির ঘরের গণ্ডগোল মেটাতে কেন হঠাৎ থানার বড়বাবুর এত ‘উদ্বেগ’? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অতি সক্রিয়তাকে ভালোভাবে নেননি। কিছুক্ষণ আগেই তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন— “পুলিশকে দিয়ে তৃণমূলের ঘুঁটি চালালে তার উত্তর হবে রাজপথে। ওসির সেই ফোনের রহস্য উন্মোচন করতে আমি এখনই সশরীরে মহিষাদল থানায় যাচ্ছি।”

আমি শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘থানা অভিযান’ ভবিষ্যতে মহিষাদলের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল হয়ত পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরে ফাটল ধরানোর যে ছক কষেছিল, শুভেন্দুর এই সরাসরি ‘অ্যাকশন’ তাকে তাসের ঘরের মত গুঁড়িয়ে দিতে পারে। ভবিষ্যতে যদি এই পুলিশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ সামনে আসে, তবে নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়তে পারে প্রশাসন, যা আদতে তৃণমূলকেই চরম অস্বস্তিতে ফেলবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বনাথ ব্যানার্জির ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল যখন ঘর গোছানোর স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পুলিশের ‘অযাচিত প্রবেশ’ সব পরিকল্পনা ফাঁস করে দিয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টিকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে তুলে ধরে জনমতকে নিজের পক্ষে টেনে নিয়েছেন। একদিকে সুভাষ পাঞ্জার নতুন নেতৃত্ব, আর অন্যদিকে শুভেন্দুর এই লড়াকু মেজাজ— সব মিলিয়ে মহিষাদলের মাটিতে ঘাসফুলের শিকড় আলগা করার এক সুনিপুণ চাল চেলেছেন মেদিনীপুরের চাণক্য। মহিষাদলের রাজপ্রাসাদের চাতালে এখন একটাই প্রশ্ন— ওসির সেই একটি ফোন কল কি তবে ২০২৬-এর মহিষাদল যুদ্ধে বিজেপির জয়ের পথ আরও প্রশস্ত করে দিলো? শুভেন্দু যখন নিজেই থানার গেটে দাঁড়িয়ে কৈফিয়ত চাইবেন, তখন ‘চাপে’র পারদ যে সাত আসমানে, তা বলাই বাহুল্য!