প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিলোত্তমার সেই ক্ষতের দাগ আজও দগদগে। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাটি দেড় বছর আগে এক তরুণী চিকিৎসকের রক্তে ভিজেছিল। সেই একই চত্বরে আবারও ফিরলো মৃত্যু। তবে এবার কোনো আততায়ী নয়, বরং হাসপাতালের জরাজীর্ণ পরিকাঠামো আর রক্ষণাবেক্ষণের চূড়ান্ত অভাবই কেড়ে নিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ। লিফট দুর্ঘটনায় এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রমাণ করল— সাধারণ মানুষের জীবনের নূন্যতম নিরাপত্তা দিতেও এই সরকার ব্যর্থ। এই ঘটনায় যখন রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে, তখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম। তিনি সরাসরি মেনে নিয়েছেন যে, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণে চূড়ান্ত অবহেলা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “গাফিলতি তো হয়েছে। বড় গাফিলতি হয়েছে। পুলিশ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ববি হাকিমের এই ‘গাফিলতি’র তত্ত্ব আসলে এতদিন ধরে চলা দুর্নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিশ্ববাংলা বলে ঢাক পেটানো হয়, সেখানে একটি লিফট কেন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হবে, সেই প্রশ্নই এখন প্রতিটি নাগরিকের মনে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, হাসপাতালের দেওয়ালে নীল-সাদা রঙ করার জন্য কোটি কোটি টাকা থাকলেও, লিফটের মত জরুরি পরিষেবা মেরামতির টাকা যাচ্ছে দুর্নীতির পকেটে। দেড় বছর আগে চিকিৎসক খুনের ঘটনার পর পরিকাঠামো উন্নয়নের যে বিশাল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি মুখ্যমন্ত্রী ছুটিয়েছিলেন, তা যে কেবলই ‘আইওয়াশ’ ছিল, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও, মূল দায় কি স্বাস্থ্য দপ্তর বা সরকারের শীর্ষ কর্তাদের ওপর বর্তায় না?
অভিযোগ উঠেছে, লিফটে কারিগরি ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কেন সেটিকে সচল রাখা হয়েছিল? কেন সেখানে কোনো লিফটম্যান বা সতর্কবার্তা ছিল না? সাধারণ মানুষের করের টাকায় উৎসব আর মেলা হলেও, সরকারি হাসপাতালে কেন সাধারণ মানুষকে লাশের সারিতে দাঁড়াতে হবে— এই নিয়ে এখন উত্তাল সোশাল মিডিয়া। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন আকাশচুম্বী। আরজিকর কি শুধুই মৃত্যুর জন্য কুখ্যাত হয়ে থাকবে? নাকি তৃণমূল সরকার শুধু ‘গাফিলতি’ স্বীকার করেই দায় এড়াবে? মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের হাহাকার আজ প্রতিটি বাঙালির বাড়ির জানলায় টোকা দিচ্ছে এবং প্রশাসনের অপদার্থতাকে ধিক্কার জানাচ্ছে।