প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সময় বহমান, আর সেই সময়ের চাকা ঘুরতেই এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে করিডোরে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রাধান্য ছিল, মঙ্গলবার সেখানেই শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সুর। কোনো জোর-জবরদস্তি নয়, বরং এক স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাসে মেতে উঠলেন সরকারি কর্মীদের একাংশ।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার রেশ যে নবান্নের চৌকাঠ পেরিয়ে ভেতরে পৌঁছে যাবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। এদিন সকালে নবান্নের ভেতরেই একদল কর্মীকে আবির খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। গেরুয়া আবিরে রাঙানো সেই মুহূর্তে হঠাৎই প্রতিধ্বনিত হয় ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্লোগান কেবল কোনো বিশেষ দলের জয়গান নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। যে নবান্ন থেকে একসময় বিরোধী শিবিরের এই স্লোগানকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই নবান্নের দেওয়ালেই সেই ধ্বনি আছড়ে পড়া এক বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত।
নবান্নের বাইরে যখন কড়া নিরাপত্তার চাদরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, তখন ভেতরে কর্মীদের এই উল্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছে যে শাসনের পরিবর্তন শুধু ফাইলে নয়, মানুষের মানসিকতাতেও ঘটে গিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের জন্য এই দৃশ্য নিশ্চিতভাবেই এক বড় ধাক্কা। প্রশাসনের অন্দরেই যে এভাবে বিরোধীদের আধিপত্য তৈরি হবে, তা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে কার্যত অবিশ্বাস্য।
আইনি ও প্রশাসনিক শিষ্টাচার বজায় রেখেই কর্মীরা এদিন মেতেছিলেন জয়ের উৎসবে। কোনো অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নবান্নের অলিন্দে এখন শুধুই নতুন ভোরের অপেক্ষা। বঙ্গ রাজনীতির এই পটপরিবর্তন এখন শুধু রাজপথের নয়, নবান্নেরও নতুন বাস্তবতা।