প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রতিটি মুহূর্ত এখন মূল্যবান। ঠিক এই তপ্ত আবহে আগামী ২৪ মার্চ ফের পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম সফর না হলেও, নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর এই সফরকে গেরুয়া শিবিরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে নীতিন নবীনের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে রাজ্য বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। টিকিট না পেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে, তেমনই সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ের সামনেও দফায় দফায় বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ছবি সামনে এসেছে। ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের একাংশ প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দলের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করা এবং বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে একযোগে ময়দানে নামানোই এখন নবীনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জানা যাচ্ছে, ২৪ তারিখ রাজ্যে পা রাখার পর হেভিওয়েটের কর্মসূচি হতে চলেছে অত্যন্ত ঠাসা। তাঁর বিশেষ ফোকাস থাকছে উত্তরবঙ্গের ওপর। বিশেষ করে রাজবংশী সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক স্তরের জনজাতি প্রতিনিধিদের নিয়ে তিনি একটি মেগা বৈঠক করতে পারেন। উত্তরবঙ্গের ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে এবং দক্ষিণবঙ্গের সাংগঠনিক রাশ শক্ত করতে একটি বড়সড় সমন্বয় বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন, নবীনজির এই সফরকে কেবল ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য নেতৃত্ব। প্রার্থী তালিকা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা ধামাচাপা দিতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তাঁকে দিয়ে একটি বিশাল জনসভা করানোর জোরদার পরিকল্পনা চলছে। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন এবং ২০২৬-এর লড়াইয়ের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট বাতলে দেবেন বলেই মনে করছেন একাংশ।
বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “নির্বাচনের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময়ে সর্বভারতীয় সভাপতির উপস্থিতি দলের নিচুতলার কর্মীদের মনে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে। ছোটখাটো যেটুকু মান-অভিমান আছে, তা মিটে যাবে।” এখন দেখার, ২৪ মার্চ নীতিন নবীন বাংলায় পা রাখার পর যুদ্ধের ময়দানে বিজেপি কতটা মাইলেজ পায়। নব্য সভাপতির হাত ধরে কি বাংলার সমীকরণ বদলাবে? উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সে।