প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মাটি। এবার বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে এক নতুন ‘বিতর্ক’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক জওয়ানকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের জিগির তুলছে শাসকদল। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনে কোণঠাসা হয়েই এখন খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক জওয়ান গাড়ি থেকে কিছু জিনিস নামাতে সাহায্য করছেন। তৃণমূলের দাবি, ওই জওয়ান সরাসরি বিজেপির প্রচার সামগ্রী বিলি করছেন। অথচ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জওয়ানরা অনেক সময় সৌজন্যবশত বা ভিড় সামলাতে মানবিক খাতিরে হাত বাড়িয়ে দেন। একে ‘নির্বাচনী প্রচার’ বলে দাগিয়ে দেওয়া কেবল হাস্যকরই নয়, বরং তৃণমূলের দেউলিয়া মানসিকতারই পরিচয় দেয়। এই ইস্যু নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই প্রমাণ দিচ্ছে তারা।

এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নীলাদ্রিশেখর দানা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জওয়ান তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন এবং কোনো প্রচারকার্যে যুক্ত নন। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এখন কুৎসার রাজনীতি শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “পদ্ম কোনো সাধারণ বস্তু নয়, এটি একটি পবিত্র ফুল যা দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়। যারা ভারতের সনাতন সংস্কৃতি বোঝে না, তারাই এমন পবিত্র প্রতীক নিয়ে রাজনীতি করতে পারে।” তাঁর দাবি, জওয়ানরা তাঁদের পেশাদারিত্ব পালন করছেন, কোনো প্রচারে অংশ নিচ্ছেন না।

বাঁকুড়ার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের এই ‘ভিডিও রাজনীতি’ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, উন্নয়ন বা জনসমর্থন নেই বলেই এখন নিরাপত্তারক্ষীদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সময় নষ্ট করছে শাসকদল। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়ই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে বাঁকুড়ায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে গত কয়েক বছরে বাংলায় বুথ দখলের রাজনীতি ধাক্কা খেয়েছে বলেই বারবার বাহিনীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আসলে মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই কি এই ধরণের শোরগোল? প্রশ্নটা এখন বাঁকুড়ার ঘরে ঘরে।