প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজতেই রণক্ষেত্র বর্ধমান। বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের সমর্থনে প্রচার করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার গভীর রাতে বালামহাট এলাকায় ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। এক বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিককে রীতিমতো ‘আঙুল উঁচিয়ে’ হুমকির মুখে পড়তে হয় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছে।

বর্ধমান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি নেতা মহাদেব মালের অভিযোগ, তিনি এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার সারছিলেন এবং দলীয় কর্মীদের জন্য রাতে খাবারের আয়োজন করেছিলেন। তাঁর দাবি, এই ‘অপরাধে’ গভীর রাতে তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়। ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় বর্ধমান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকত। পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কাউন্সিলর আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে বলছেন, তাঁর এলাকায় পুলিশ ঢোকাতে গেলে নাকি তাঁর ‘অনুমতি’ নিতে হবে।

তবে এবার আর মাথা নত করেনি পুলিশ। পালটা কড়া মেজাজে পুলিশ আধিকারিক কাউন্সিলরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজ্যে এখন ‘নির্বাচনী আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে গেছে। পুলিশ কার অনুমতি নিয়ে চলবে তা কোনো রাজনৈতিক নেতা ঠিক করবেন না। নিয়ম মেনেই পুলিশ এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেবে— পুলিশের এই পাল্টা জবাবে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন ওই কাউন্সিলর।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসকদল এখন এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে এবং প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করছে।” অন্যদিকে, কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে পুলিশের অতি-সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গেছে। ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলার এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।