প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক হাই-ভোল্টেজ শনিবারের সাক্ষী থাকতে চলেছে কলকাতা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে আজ রাতেই বঙ্গে পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, আজ রাতে নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে রাত্রিবাস করবেন তিনি। আর আগামীকাল, শনিবার প্রকাশ করবেন বর্তমান তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের ‘খতিয়ান’—যা বিজেপি অভিহিত করছে ‘অপশাসনের চার্জশিট’ হিসেবে।
বিজেপি শিবিরের দাবি, এই চার্জশিটে তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া একাধিক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরা হবে। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন এবং কয়লা পাচার কাণ্ড—তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত দিয়ে এই চার্জশিট প্রকাশ করার উদ্দেশ্য একটাই—বাংলার মানুষের কাছে এটা পরিষ্কার করে দেওয়া যে, দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সাধারণ মানুষের টাকা নয়ছয় হওয়া নিয়ে কতটা কঠোর।
আজ রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর সরাসরি নিউটাউনের হোটেলে চলে যাবেন অমিত শাহ। সেখানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে বুথ স্তরের সংগঠনকে মজবুত করা—সব বিষয়েই বঙ্গ বিজেপি নেতাদের টোটকা দিতে পারেন শাহ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে দলের ভিত আরও পোক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
শনিবারের কর্মসূচীতে শুধুমাত্র অভিযোগের পাহাড় নয়, বরং কেন্দ্রের মোদী সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কত কোটি টাকা পাঠিয়েছে এবং তার কতটা সঠিক পথে ব্যয় হয়েছে (বা হয়নি), তা নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্রের পাঠানো প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে অথবা প্রকল্পের নাম বদলে দিয়ে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করেছে রাজ্য। অমিত শাহ এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে সরাসরি বাংলার আমজনতাকে সেই হিসাব বুঝিয়ে দেবেন।
বিজেপি কর্মীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজ্যে সক্রিয়, তখন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘চার্জশিট’ অভিযান তৃণমূলের জন্য যে অস্বস্তির কারণ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, শনিবারের এই মেগা ইভেন্ট থেকে অমিত শাহ বাংলার মানুষের জন্য কী নতুন বার্তা দেন।