প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন তুঙ্গে। একদিকে বালুরঘাটের ঘরের ছেলে তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অপ্রতিরোধ্য জয়রথ, আর অন্যদিকে হারের আতঙ্কে দিশেহারা তৃণমূল কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি শুধু জয়ীই হয়নি, বরং পদ্ম-শিবির প্রমাণ করে দিয়েছিল যে উত্তরবঙ্গ মানেই গেরুয়া দুর্গ। এই ধ্রুব সত্যটা সম্ভবত এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তো হরিরামপুরের সভা থেকে হঠাৎই তাঁর মুখে শোনা গেল বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর প্রতি ‘মমতা’।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা স্রেফ হারের ভয়ে মমতার ‘কুম্ভীরাশ্রু’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরিসংখ্যান বলছে, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে বিজেপির সংগঠন এখন পাথরের মত শক্ত। সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে গত ১০ বছরে এলাকায় যে পরিমাণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ হয়েছে, তাতে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কার্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে অশোক লাহিড়ীকে টিকিট না দেওয়া নিয়ে দরদ দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বালুরঘাটের মানুষ ভোলেননি, এই অশোক লাহিড়ীকেই বিধানসভা ভোটের সময় ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করেছিল তৃণমূল। আজ পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি সেই ‘ভদ্রলোক’ তাস খেলছেন দিদি? বিজেপির সাফ কথা, “বিজেপি ক্যাডার ভিত্তিক দল, এখানে ব্যক্তি নয়, পদ্ম প্রতীকই শেষ কথা। ডঃ লাহিড়ী দলের সম্পদ ছিলেন এবং আছেন, কিন্তু তৃণমূলের মত ব্যক্তিপূজা এখানে হয় না।”

তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে অর্পিতা ঘোষকে। কিন্তু এই নামটা বালুরঘাটের মানুষের কাছে এক বড় আক্ষেপের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে তিনটি বড় কাঁটা। ২০১৪ সালে জেতার পর লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন। মাঝপথে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি কেন ময়দান ছেড়েছিলেন, তার উত্তর আজও মেলেনি। যিনি নিজের পদের মর্যাদা রাখতে পারেন না, তাঁকে কেন ফের ভোট দেবে বালুরঘাট? অর্পিতা ঘোষ যখন সাংসদ ছিলেন, তখন তাঁকে এলাকায় পাওয়াই যেত না বলে অভিযোগ। উন্নয়নের চেয়ে বেশি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। একজন উচ্চশিক্ষিত অধ্যাপক এবং এলাকার ঘরের ছেলে হিসেবে সুকান্ত মজুমদার বিগত বছরে রেল থেকে জাতীয় সড়ক—যে আমূল পরিবর্তন এনেছেন, তার সামনে অর্পিতা ঘোষের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অত্যন্ত ফিকে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বালুরঘাটে এবার লড়াইটা স্রেফ জেতার নয়, বরং জয়ের ব্যবধান কয়েক লক্ষ করার। সুকান্ত-ঝড়ে খড়কুটোর মত উড়ে যাবে তৃণমূলের যাবতীয় ষড়যন্ত্র। মমতার ‘অশোক-স্তুতি’ আসলে তাঁর ক্যাডারদের মনোবল চাঙ্গা করার এক ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। যখন ঘরের শত্রু বিভীষণে ভরা তৃণমূলের অন্দরেই কোন্দল চরমে, তখন বিরোধী দলের টিকিট বণ্টন নিয়ে কথা বলাটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই প্রমাণ।বালুরঘাটের শিক্ষিত ভোটাররা জানেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কার হাতে সুরক্ষিত। তাই মমতার মায়াকান্নায় কান না দিয়ে উন্নয়ন আর আত্মসম্মানের লড়াইতে এবারও পদ্ম-বটনেই সিলমোহর দিতে চলেছে দক্ষিণ দিনাজপুর।