প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইন যখন তার নিজের গতিতে চলতে শুরু করে, তখন রাজনেতাদের অন্দরে শোরগোল পড়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়! ঠিক যেমনটা ধরা পড়ল তৃণমূলের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার টিকিটের কালোবাজারি এবং খোদ ফুটবল ঈশ্বরকে হেনস্থা করার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই ‘মেসিকাণ্ডে’ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে তলব করা হয়েছিল অরূপকে। ৫ জুনের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ ছিল। কিন্তু নোটিস হাতে পেতেই রাতারাতি ‘শারীরিক অসুস্থতা’র কারণ দর্শিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি বসা এড়ালেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কটাক্ষ এবং রসালো চর্চা।তৃণমূল জমানার একাধিক ফাইল যখন নতুন করে খুলছে, তখন রাজ্যবাসীর মনে কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, ৫ জুনের মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি না হয়ে আইনজীবী মারফত মেডিকেল সার্টিফিকেট পাঠিয়েছেন এবং সোজা ২ সপ্তাহের (১৪ দিন) অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের বড় অংশের মতে, আদালতের থেকে কোনো আইনি রক্ষাকবচ বা আগাম জামিন পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাতেই এই সময় কেনার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের এফআইআর-এর (FIR) বয়ান অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক ২২,০০০ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট এবং ভিআইপি পাস আদায় করা হয়েছিল, যা পরে কোটি কোটি টাকায় কালোবাজারি করা হয়। শুধু তাই নয়, মাঠে বহিরাগতদের তাণ্ডবে খোদ লিওনেল মেসি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। বাংলার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের আবেগকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার এই অভিযোগের শেষ কোথায়?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার পরই এই ধামাচাপা পড়ে থাকা মেসিকাণ্ডের ফাইল নতুন করে গতি পেয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপের জন্য শতদ্রু দত্ত স্বয়ং বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন এবার শেষ। যাঁরা ক্ষমতার অলিন্দে বসে ফুটবল তারকাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতির অভিযোগের কাঠগড়ায়, আজ তদন্তকারী সংস্থার ডাক আসতেই তাঁদের শারীরিক অসুস্থতার চিঠি পাঠাতে হচ্ছে! মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে সাময়িকভাবে হয়তো কয়েকটা দিন সময় পাওয়া যাবে, কিন্তু বাংলার কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেই জনতার দরবার থেকে কি পার পাওয়া সম্ভব? তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপই বলে দেবে, এই ‘অসুস্থতা’র মেয়াদ আর কতদিন স্থায়ী হয়! তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন।