প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের পুণ্যলগ্নে কার্যত নজিরবিহীন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটে গেল খোদ কলকাতায়। কালীঘাটের মূল তৃণমূল শিবিরের সমান্তরালে, কলকাতার মেয়ো রোডের গাঁধীমূর্তির পাদদেশে আয়োজিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’-এর বিকল্প সমাবেশ থেকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সমস্ত পদ ত্যাগ করে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া মদন মিত্র এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি ডেডলাইন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আর কাউকে বলছি না, আপনাকে বলছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক আপনাকে এক ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আমরা এক মাস সময় দিচ্ছি। আপনি অভিষেককে ছাড়ুন, এই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে বলুন, আপনি তৃণমূলের সঙ্গে আছেন, অভিষেকের সঙ্গে নেই।”এখানেই শেষ নয়, দলনেত্রীকে মহাভারতের চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “এসে বলুন, আমার ভুল হয়েছিল, আমি গান্ধারীর মতো পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলাম।” মদন মিত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বা বিনোদন জগতের সেলিব্রিটিরা মুখ্যমন্ত্রী বানাননি, সাধারণ কর্মীরাই তাঁকে এই আসনে বসিয়েছেন।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও বেশি চাঁছাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন মদন মিত্র। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উদ্দেশে তিনি সাফ বলেন, “দু’ঘণ্টার মধ্যে এই সভামঞ্চে এসে বলো, আমার অপরাধ হয়েছে। আমার জন‍্য গোটা পার্টিটা শেষ হয়ে গিয়েছে, আমি ভুল স্বীকার করছি।” অভিষেকের কর্পোরেট রাজনীতি ও তাঁর ব্যক্তিগত চাটার্ড বিমান ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরে মদন মিত্র স্পষ্ট জানান যে দলের সম্পদ সাধারণ কর্মীদের, কোনো একক ব্যক্তির পিতৃদেবের সম্পত্তি নয়।

তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পুরোনো আবেগ মেশানো সুর শোনা গিয়েছে মদন মিত্রের গলায়। তিনি চড়া সুরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যদি হিম্মত থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি হেঁটে আসুন, একটা ঢিলও পড়বে না, আমরা আমাদের গলার উত্তরীয় পেতে দেব। সেই উত্তরীয় মাড়িয়ে আপনি আসুন।”