প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। দলীয় ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহে ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে চরম আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে সরাসরি “বিজেপির বি-টিম” বলে তোপ দাগলেন তিনি। শুধু তাই নয়, দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি, “আপনাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই, ক্ষমা করুন!” নেত্রীর এই হুঙ্কারে ওলটপালট হয়ে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ।

এদিন কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় দলত্যাগীদের আক্রমণ করেন। অতি সম্প্রতি দলের এক বড় অংশের দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে। বেঁচে গিয়েছি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর যারা পাশ ফিরেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই এই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেত্রী।

ভাষণ চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও সরব হন। তাঁর দাবি, ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন, “ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে হয়তো কিছু ক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়, কিন্তু চিরকালের জন্য নয়।”

বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলটিকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই শিবিরটি আসলে বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “বিজেপির এই বি-টিমও খুব দ্রুত ভেঙে যাবে।” এরপরই সরাসরি ঋতব্রত শিবিরের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের ধনে-মানে-প্রাণে ভালো থাকুন। তবে আপনাদের আর আমাদের প্রয়োজন নেই।”

পুরনো এবং শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগে দমে না গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, তিনি শূন্য থেকে আবার নতুন করে শুরু করতে প্রস্তুত। দলের তরুণ এবং লড়াকু কর্মীদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, “নতুনদের এই সোনার খনি নিয়েই আমি নতুন করে লড়াই শুরু করব।” এই উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় নিজে ঘুরবেন এবং নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশের এই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, আপস বা আত্মসমর্পণের রাস্তায় না হেঁটে তিনি নতুনদের কাঁধে ভর করেই আগামী দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর মরণপণ লড়াই লড়বেন।