প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার তপ্ত রাজনীতিতে এবার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটালেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বীরভূমের পুণ্যভূমি বোলপুর থেকে আজ কার্যত রণহুঙ্কার ছাড়লেন তিনি। তৃণমূলের তথাকথিত ‘বাহুবলী’ এবং সিন্ডিকেট রাজের কারবারিদের উদ্দেশে শাহের সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “কাটমানি আর সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব।” শাহের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জল্পনা তুঙ্গে, তবে কি ৪ মে-র পর বাংলায় কোনো বড়সড় ‘অপারেশন’ শুরু হতে চলেছে?
এদিন বোলপুরের হাইভোল্টেজ নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছে তৃণমূলের তোলাবাজ বাহিনী। শাহ সরাসরি তোপ দেগে বলেন, ‘‘এই রাজ্যে কোনো গরিব মানুষ যদি নিজের মাথার ওপর একটা ছাদ বা ঘর বানাতে চান, তবে মমতার গুন্ডাদের পয়সা দিতে হয়। তোলাবাজি আর কাটমানি ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না।’’ শাহের দাবি, সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা টাকায় তৃণমূলের নেতাদের পকেট ভরছে, যা এবার বন্ধ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
এদিনের সভার সবথেকে চর্চিত এবং আক্রমণাত্মক বিষয় ছিল শাহের কঠোর হুঁশিয়ারি। সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা মমতাকে টাটা-বাই করে দিন। এই কাটমানি আর সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে এটিই শাহের দেওয়া সবথেকে কড়া দাওয়াই। শাহের এই ‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা’ করার কথাটি শোনামাত্রই সভাস্থলে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে কোনো আপস করা হবে না।
অমিত শাহ এদিন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে বিকাশের নতুন যুগ শুরু হবে। তোলাবাজি নয়, উন্নয়নই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’’ বীরভূমের মানুষকে ভয় কাটিয়ে বুথমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই অরাজক শাসনব্যবস্থাকে বিদায় জানানোর সময় এসে গিয়েছে। ৪ মে-র পর সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বোলপুরের এই জনসভা থেকে অমিত শাহ আজ যে মেজাজে ধরা দিলেন, তাতে পরিষ্কার যে নির্বাচনের শেষবেলায় বিজেপি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। শাহের আজকের প্রতিটি শব্দে ছিল তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে চরম আক্রোশ। এখন দেখার, শাহের এই ‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার’ হুঙ্কার ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে। ৪ মে-র পর সত্যিই কি বাংলায় কোনো বড় ‘ধামাকা’ হতে চলেছে? সেই অপেক্ষাতেই এখন প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য।