প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সবথেকে বড় ধামাকা! পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (২০২৬) মাত্র দিন ১৫ আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জালে ধরা পড়লেন আইপ্যাক (I-PAC) সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) গভীর রাতে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোটের মুখে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি কি শাসক দলের দুর্ভেদ্য দুর্গে ফাটল ধরিয়ে দিল? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের বহুল চর্চিত কয়লা পাচার মামলায় (Coal Scam) বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের তদন্তে ভিনেশ চান্ডেলের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, পাচারের কালো টাকা প্রভাবশালী মহলের মদতে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের জাল খুঁজতে গত ২ এপ্রিল তাঁর দিল্লির বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। দীর্ঘ জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় সোমবার রাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
আইপ্যাক সংস্থাটি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দীর্ঘদিনের নির্বাচনী পরামর্শদাতা। ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মুখে সংস্থার শীর্ষকর্তার গ্রেফতারি শাসক শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভিনেশকে জেরা করে কয়লার টাকা কোথায় কোথায় পৌঁছেছে, তার বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল— কয়লা পাচারের টাকা ঘুরপথে নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত হয়; এই গ্রেফতারি কি সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে?
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি’ ও ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে তীব্র নিন্দা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের দাবি— দুর্নীতির শিকড় যেখানেই থাক, আইন তাকে খুঁজে বের করবেই।
আইপ্যাক কর্তার এই পরিণতি কি তবে এ রাজ্যে কোনো বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস? তাসের ঘরের মতো কি তবে ভেঙে পড়তে চলেছে সব পরিকল্পনা? উত্তর দেবে সময়।