প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বাংলায় ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ক্ষমতা থেকে চ্যুত হতেই এবার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে ‘সহানুভূতির সুনামি’ তৈরির মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দক্ষিণ ২৪ পারগনার সোনারপুরে প্রাক্তন শাসকদলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার থেকেই উত্তাল রাজনীতি। ঘটনার পরপরই কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডেলে যেভাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন, এই অতি-সক্রিয়তা কি আসলে ক্ষমতা হারানোর হতাশা এবং একের পর এক দুর্নীতির মামলা থেকে আমজনতার চোখ ঘোরানোর এক পরিকল্পিত মরিয়া চেষ্টা? আইনি পরিভাষায় যে কোনো ধরনের শারীরিক হেনস্থা বা অপরাধমূলক ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং ভারতের আইন অনুযায়ী এই ঘটনার নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়ার আগেই যেভাবে ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিকরা আসরে নেমে পড়েছেন, তাতে তাঁদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং নতুন সরকারের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা আমজনতার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এরাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা যখন প্রতিনিয়ত তৃণমূলের বিগত আমলের অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতেন, তখন বাংলায় ক্ষমতা বদলের পরও দিল্লির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে রাহুল গান্ধীর এই অতি-উদ্বেগ এরাজ্যের বুথ স্তরের কংগ্রেস কর্মীদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য কী, তা পুলিশি ও আইনি তদন্ত সাপেক্ষ। কিন্তু কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই রাহুল গান্ধী যেভাবে একে সরাসরি “বিজেপির প্রতিশোধের রাজনীতি” বলে দেগে দিলেন, তা তাঁর রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে। আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলে সস্তা রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতার দাবি— একজন বিরোধী সাংসদের ওপর হামলা নাকি “গণতন্ত্রের ওপর আঘাত”। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন যখন বিগত নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ওপর একের পর এক নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠত, তখন এই ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’দের মুখে কুলুপ আঁটা থাকত কেন? সাধারণ মানুষের রক্তের কি তবে কোনো রাজনৈতিক মূল্য নেই?

আইন আইনের পথেই চলবে এবং নবগঠিত রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করে সত্য সামনে আনবে— এটাই দস্তুর। কিন্তু সেই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিরোধী জোটের নেতারা যেভাবে এই ঘটনাকে পুঁজি করে মোদী-শুভেন্দু সরকারকে আক্রমণ করতে নেমে পড়েছেন, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারিয়ে এবং জাতীয় স্তরে একের পর এক দুর্নীতির মামলায় কোণঠাসা দলগুলো এখন একে অপরকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনমানসে এক কৃত্রিম ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছে। সোনারপুরের ঘটনাটির প্রকৃত সত্য কী এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতা হারানোর পর জনরোষের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে কি না, তা তদন্তেই প্রমাণিত হবে। তবে রাহুল গান্ধীর এই অতি-উদ্বেগ ও রাজনৈতিক স্টান্ট এরাজ্যের সচেতন আমজনতাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।