প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা ভোটের আবহে এবার বড়সড় ধামাকা। নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ওপর সাঁড়াশি চাপ বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সংস্থার অন্যতম শীর্ষ ডিরেক্টর ঋষি রাজকে এবার দিল্লির সদর দফতরে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই ঋষি রাজকে তলব করায় রাজনৈতিক মহলে রীতিমত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, হাওলা লেনদেন এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় ঋষি রাজকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এর আগে গত ২ এপ্রিল তাঁর বেঙ্গালুরুর বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি ইডি-র। আজ, ২০ এপ্রিল তাঁকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

আই-প্যাকের আর এক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল বর্তমানে ইডি-র হেফাজতে। তাঁর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কি ঋষি রাজকে ডাকা হলো? উঠছে বড় প্রশ্ন।বাংলায় প্রথম দফার ভোটের ঠিক তিন দিন আগে এই পদক্ষেপ নিয়ে সরগরম রাজনীতি। ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এই তদন্তের জাল রাজ্যের কয়লা পাচার কাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে। রাজ্যে তৃণমূলের হয়ে প্রচার কৌশল তৈরির মূল দায়িত্বে থাকে এই সংস্থা। ফলে আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তাদের ওপর ইডি-র এই কড়া নজরদারি ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার সন্দেহ, রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে বিপুল পরিমাণ টাকা বেআইনিভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে বা বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। ঋষি রাজের বয়ান এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, দিল্লির ইডি দফতরে হাজিরা দিয়ে ঋষি রাজ তদন্তে সহযোগিতা করেন নাকি তদন্তের জল আরও গভীরে গড়ায়। এই ঘটনার পর আই-প্যাকের ভবিষ্যৎ এবং আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।