প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। এই চরম উত্তেজনার আবহে খোদ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে সাসপেন্ড করে বড়সড় বার্তা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্লাইং স্কোয়াডের তিন শীর্ষ আধিকারিককে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া তিন ম্যাজিস্ট্রেট হলেন:
১. সুরঞ্জন দাস
২. সত্যরঞ্জন পাল
৩. সৌভিক নন্দী
তাঁরা প্রত্যেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রের ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ (Flying Squad)-এর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে কড়া আদর্শ আচরণবিধি (MCC) চালু রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বেআইনি টাকার লেনদেন রুখতে এই তিন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। গত ১৭ এপ্রিল রাত ৯টা থেকে ১৮ এপ্রিল সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। রাত ১১টা নাগাদ নির্বাচনী আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক (Expenditure Observer) হঠাৎই এলাকায় সারপ্রাইজ ভিজিট বা আকস্মিক পরিদর্শনে বেরোন।
পর্যবেক্ষক দেখেন যে, ভবানীপুর থানার সামনে কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ বসে রয়েছেন ওই তিন ম্যাজিস্ট্রেট। ফ্লাইং স্কোয়াডের নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের ওই সময়ে গোটা এলাকায় মোবাইল পেট্রোলিং বা টহল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নজর এড়ায়নি পর্যবেক্ষকের।
পর্যবেক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানায়, ওই আধিকারিকরা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ধরণের গাফিলতি চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে কমিশন। এর জেরেই তাঁদের তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার এবং নির্বাচনী সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের আগে ভবানীপুর কেন্দ্রটি গোটা দেশের নজর কেড়েছে। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কড়া টক্করে উত্তপ্ত এই বিধানসভা। এমন সংবেদনশীল কেন্দ্রে নজরদারিতে ফাঁক রাখলে বড়সড় অনিয়ম হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল কমিশনের। তাই ভোটের ঠিক কয়েকদিন আগে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাধ্যমে কমিশন বুঝিয়ে দিল, ডিউটির ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না।
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে ওই তিনজনের শূন্যপদে দ্রুত বিকল্প আধিকারিক নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নজরদারিতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।