প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতির চূড়ান্ত লগ্নে দাঁড়িয়ে এক অভূতপূর্ব রণকৌশলের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের নিউ ব্যারাকপুর অগ্রদূত ময়দানে আজ এক মেগা জনসভায় দাঁড়িয়ে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি প্রার্থীদের জন্য আপনাদের ভোট দিতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এবং কলকাতার হারানো গৌরবকে ফেরানোর জন্য আপনাদের ভোট দিতে হবে।” আগামীকাল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগে শাহের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এদিন ভাষণে কলকাতা শহরের বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দিদির রাজত্বে এবং তার আগের কমিউনিস্টদের জমানায় গোটা শহর বস্তির শহর হয়ে রয়ে গিয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ভারতের অন্যান্য মেগা শহর যখন আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘স্ল্যাম-ফ্রি’ বা বস্তিমুক্ত হওয়ার পথে এগোচ্ছে, কলকাতা সেখানে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঠিক উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শাহ সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, তৃণমূল নেত্রী বস্তি এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ কারীদের জায়গা দিয়ে নিজের স্থায়ী ‘ভোটব্যাঙ্ক’ তৈরি করছেন। এই প্রক্রিয়ায় কলকাতার জনবিন্যাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রাজ্যে এবার দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আগামী কাল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর আগামী ২৯ শে এপ্রিল দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার নির্বাচন। নির্বাচনের এই সংক্ষিপ্ত সূচির মধ্যে অমিত শাহের আজকের এই “আদর্শগত লড়াইয়ের” আহ্বান ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটারদের সরাসরি প্রার্থীদের নাম ভুলে রাজ্যের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে’ সামিল হওয়ার ডাক দিয়ে শাহ আসলে হিন্দু ভোট মেরুকরণকেই আরও মজবুত করতে চেয়েছেন।
অমিত শাহের আজকের এই বক্তব্যের মূল স্তম্ভ হলো ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘নগর উন্নয়ন’। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভোটটি কেবল একজন বিধায়ক নির্বাচনের জন্য নয়, বরং বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য। দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও লোকনাথ বাবার পবিত্র স্মরণের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগকে যেমন স্পর্শ করেছেন, ঠিক তেমনই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়ে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন।