প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার ভোট নিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই কি এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই এবার বাংলার বুকে নামানো হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের এই প্রস্তুতি দেখে রাজনৈতিক মহলের একটাই প্রশ্ন— তবে কি দ্বিতীয় দফায় বড়সড় কিছু ঘটার আশঙ্কা করছে কমিশন?
কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ। এই বিশাল সংখ্যার উপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।
প্রতিটি বুথকে দুর্গের মত সুরক্ষিত করতে কমিশন বিশেষ গাইডলাইন জারি করেছে:
প্রতিটি বুথে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবেই। যেখানে ৩টি বুথ একসঙ্গে, সেখানে থাকছে ১ সেকশন বাহিনী। ৫ টি বুথ থাকলে সরাসরি ২ সেকশন বাহিনী পাহারায় থাকবে।
শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই বাহিনীর দাপট থাকবে নজরকাড়া। কলকাতা: ২৭৩ কোম্পানি। পূর্ব বর্ধমান: ২৬০ কোম্পানি। বারুইপুর ও ব্যারাকপুর: যথাক্রমে ১৬১ এবং ১৬০ কোম্পানি। কৃষ্ণনগর ও ডায়মন্ড হারবার: ১৫৮ এবং ১৩৪ কোম্পানি। হাওড়া গ্রামীণ ও বারাসাত: ১৪৭ এবং ১১২ কোম্পানি। এছাড়া বনগাঁয় ৬২ এবং বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে।
মাঠের নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তিতেও এক চুল জমি ছাড়ছে না কমিশন। নিউটাউনে একটি স্পেশাল কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। সামান্য অশান্তির খবর পেলেই যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই ভোটে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তাই ভোট যাতে কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, তার জন্য আটঘাঁট বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, এই ২ লক্ষ বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোট কতটা ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ’ হয়।