প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোট মিটতেই কি তবে পায়ের তলার মাটি সরছে শাসকদলের? নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের স্ট্রং রুমের সামনে দেখা গেল, তাতে রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এখন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করতে ‘শৌচাগার’ ও ‘সিসিটিভি’-র দোহাই দিয়ে ময়দানে নেমেছেন তিনি।
এদিন আকস্মিকভাবেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে এজেন্টদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন তিনি। তিনি জানান, এজেন্টদের জন্য ৪টি শৌচাগার এবং ২ ঘণ্টা অন্তর তা পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এজেন্টদের বারান্দায় বসার এবং নিচে সিসিটিভি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘মানবিক’ বার্তার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। অতীতে দেখা গিয়েছে, যখনই তৃণমূল কংগ্রেস চাপে পড়েছে, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং রাস্তায় নেমেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বুথ ফেরত সমীক্ষা বা অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে হারের ইঙ্গিত পেয়েই কি এখন ইভিএম লুঠের কাল্পনিক ভয় দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেছেন যে, ভোট ‘একতরফা’ হয়েছে এবং তাঁর দলের এজেন্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, হারের পর যাতে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর দায় চাপানো যায়, তারই সলতে পাকানো শুরু করলেন তিনি। গণনার দিন যাতে তৃণমূল এজেন্টরা ঘাবড়ে না যান, তাই ‘জীবন বাজি রেখে লড়ার’ বার্তা দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।
বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে কীভাবে নির্দেশ দেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, “উন্নয়নের ভাঁড়ারে টান পড়লে যেমন শৌচাগার নিয়ে রাজনীতি করতে হয়, তৃণমূল নেত্রী এখন ঠিক সেই অবস্থাতেই পৌঁছেছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী যতই ‘সব দলের এজেন্টের জন্য ব্যবস্থা’ করার কথা বলুন না কেন, তাঁর বক্তব্যে “জীবন বাজি রেখে লড়ার” হুঁশিয়ারি কি আসলে অশান্তির ইঙ্গিত? নাকি হারের আগে হার না মানার এক শেষ চেষ্টা? উত্তর মিলবে গণনার দিনেই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই স্ট্রং রুম পরিদর্শন যে বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।