প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ফলতার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কি তবে একটা অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই জনপদে পরিবর্তনের ছবিটা স্পষ্ট। একসময় যে পার্টি অফিস ছিল এলাকার ‘পাওয়ার সেন্টার’, আজ তা খাঁ খাঁ করছে। নেই অনুগামীদের ভিড়, নেই পুলিশের সেই কড়া নিরাপত্তা। ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাঙ্গির খানের পার্টি অফিস থেকে পাততাড়ি গুটিয়েছেন ১৪ জন পুলিশকর্মী। আর তার পর থেকেই এলাকায় কার্যত ‘বেপাত্তা’ এই দাপুটে নেতা।

গত কয়েক বছর ধরে ফলতায় জাহাঙ্গির খানের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর নিরাপত্তার জন্য খোদ দলীয় কার্যালয়েই তৈরি করা হয়েছিল পুলিশের অস্থায়ী ব্যারাক। সেখানে মোতায়েন থাকতেন ১৪ জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী। কিন্তু গণনার ফল প্রতিকূলে যেতেই ছবিটা বদলে যায়। উপরমহলের নির্দেশে তড়িঘড়ি সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। পুলিশকর্মীরা তাঁদের বিছানা-বালিশ গুটিয়ে অফিস ছাড়তেই কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়ে জাহাঙ্গিরের দুর্গ। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনা আসলে এক ‘প্রভাবশালী’ জামানার পতনের সংকেত।

এবারের নির্বাচনে ফলতা ছিল রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশ অবজারভার অজয় পাল শর্মার কড়া নজরদারি এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের কারণে জাহাঙ্গির বাহিনী আগের মতো ‘ছাপ্পা’ বা ‘রিগিং’-এর সুযোগ পায়নি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

অনিয়মের অভিযোগে ফলতার মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট গ্রহণ (Re-poll) হবে, যা এ রাজ্যে নজিরবিহীন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় পুনর্নির্বাচন হওয়ায় শাসক শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধ্বস নামতে পারে। এদিকে সম্প্রতি নির্বাচনের ফলাফল আসতেই দেখা যায়, শুধু জাহাঙ্গির খান নন, বরং তৃণমূলের সাজানো ঘর কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

জাহাঙ্গির খান এখন কোথায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফলতার অলিতে-গলিতে। তাঁর বাড়িতে তালা, ফোন বন্ধ। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ‘দেশত্যাগ’ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও এর কোনো প্রশাসনিক ভিত্তি এখনও নেই। তবে বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে রাজনীতি তিনি চালিয়েছিলেন, আজ মানুষ ব্যালটেই তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।

ফলতার এই ছবি আসলে গোটা রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক ক্ষুদ্র সংস্করণ। পুলিশি ঘেরাটোপে থেকে যারা রাজনীতি করতেন, জনসমর্থন হারিয়ে আজ তাঁরাই ঘরছাড়া। ক্ষমতার দম্ভ যে চিরস্থায়ী নয়, জাহাঙ্গির খানের খালি পড়ে থাকা পার্টি অফিস আর পুলিশের বিদায় নেওয়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।