প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে দীর্ঘ কয়েক দশকের এক অলিখিত প্রথার অবসান ঘটালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ নবান্নে তাঁর সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে তিনি যে কড়া বার্তা দিলেন, তাতে কার্যত থমকে গিয়েছে রাজনীতির অলিন্দ। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে নবান্ন আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে বা ‘পার্টি অফিস’ হিসেবে চলবে না।
এদিন বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরকে। তাঁর ছবি স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের সরকার হবে সংবিধানের সরকার। এতদিন এই ভবনে যে ‘ফর দ্য পার্টি’ সংস্কৃতি চলেছিল, তার সমাধি ঘটিয়ে আমরা ফিরিয়ে আনব বাবাসাহেবের সেই মূল মন্ত্র— ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল এবং অফ দ্য পিপল।” অর্থাৎ, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেবল সাধারণ মানুষের স্বার্থে, কোনো দলীয় ক্যাডারদের তুষ্ট করতে নয়।
মুখ্যমন্ত্রী যে কেবল কথার কথা বলছেন না, তা তাঁর নেওয়া প্রথম দিনের সিদ্ধান্তগুলোতেই স্পষ্ট। ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠকেই তিনি একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বতম বয়সসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি, যা গত কয়েক বছরের ‘নিয়োগ দুর্নীতির’ আবহে বড় স্বস্তি। সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘদিনের জমি জট কাটিয়ে BSF-কে জমি হস্তান্তরের জন্য ৪০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। বাংলায় এবার চালু হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প এবং কার্যকর হচ্ছে কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)।
শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘আম্বেদকর মডেল’ আসলে রাজ্যের আমলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছেও এক বড় বার্তা। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফাইলের গতি হবে জনগণের প্রয়োজনে, দলের নির্দেশে নয়। বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নে বসেই ডঃ আম্বেদকরের দোহাই দিয়ে শুভেন্দু আসলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের কাছে এই ভরসা পৌঁছে দিতে চাইলেন যে, এখন থেকে আইন সবার জন্য সমান।
নবান্নে আজ যেন এক নতুন ভোরের সূচনা। যেখানে দলীয় ঝাণ্ডার বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে বাবাসাহেবের সংবিধান। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘সংবিধানের শাসন’ আগামী দিনে বাংলার মানুষের ভাগ্য কতটা ফেরাতে পারে।