প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় শুরু হলো এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়। আজ শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নবান্নে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর দায়িত্বভার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরেই জারি হলো এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা, যার ফলে কার্যত ‘বজ্রপাত’ নেমে এল প্রশাসনের একাংশের ওপর।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬০ বছর বয়সের গণ্ডি পেরিয়েও যারা চুক্তির ভিত্তিতে বা পুনর্নিয়োগের (Re-employment) মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি পদে আসীন ছিলেন, তাঁদের সেই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হলো। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বোর্ড, এবং স্বশাসিত সংস্থায় কর্মরত কয়েকশো প্রভাবশালী আধিকারিক এক লহমায় কাজ হারালেন।
নির্দেশিকাটি শুধুমাত্র পদ কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, এটি যথেষ্ট কঠোর। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সমস্ত প্রাক্তন আধিকারিক বা পদাধিকারীরা আর সরকারি অফিসে বসতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের এতদিন ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি এবং সরকারি আবাসন বা বাংলো দ্রুত খালি করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার করে দিলেন যে তাঁর শাসনে ‘এক্সটেনশন রাজ’ আর চলবে না। নতুন ও দক্ষ আমলাদের সুযোগ করে দিতে এবং প্রশাসনে গতি আনতে এই পদক্ষেপকে একটি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি খরচ কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে এই আদেশের অন্যথা না হয়, তার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। একদিকে যখন এই সিদ্ধান্তে বড় বড় প্রভাব শালীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, তখন অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও তরুণ আমলাদের মধ্যে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।