প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের চাটুকারিতার সংস্কৃতিতে কার্যত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই আমলা ও সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। আর সেই বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর শাসনামলে ব্যক্তিপুজো বা তোষামোদির কোনো জায়গা নেই।
গত এক দশকে সরকারি প্রকল্পের ফ্লেক্স, বিজ্ঞাপন কিংবা সাইনবোর্ডে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’ শব্দবন্ধটি দেখা যেত সর্বত্র। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে কোনো নেতার প্রচার চলবে না। তাঁর নির্দেশ, সরকারি প্রকল্পের বিজ্ঞাপন বা ফলক থেকে অবিলম্বে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লেখাটি বাদ দিতে হবে। সরকারি কাজ হবে সংবিধান ও নিয়ম মেনে, কারো প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য নয়। বিজ্ঞাপনে অহেতুক ব্যক্তিগত ছবি বা প্রচারের চেয়ে প্রকল্পের উপযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এই একটি নির্দেশের মাধ্যমে প্রশাসনের স্তরে স্তরে গেঁথে থাকা ‘ইয়েস স্যার’ সংস্কৃতিতে আঘাত হানলেন। বিজেপি বরাবরই তৃণমূল সরকারের এই ‘অনুপ্রেরণা’ সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে এসেছে। আজ সেই কথারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি টাকার অপচয় কমবে, অন্যদিকে আধিকারিকরা রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করার আত্মবিশ্বাস পাবেন।
বৈঠকে উপস্থিত সচিবদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে খুশি করার জন্য বিজ্ঞাপনে আমার নাম বা ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। মানুষের কাজ যদি সঠিক সময়ে এবং স্বচ্ছভাবে হয়, তবেই আমি খুশি হব।” সেই সঙ্গে মৌখিক নির্দেশের পরিবর্তে লিখিত ফাইল চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে দায়বদ্ধ ও নথিভুক্ত।
নবান্নের ১৪তলায় আজ বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ‘অনুপ্রেরণা’ থেকে ‘কর্তব্যে’র পথে এই উত্তরণ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপের পর নিচুতলার প্রশাসনে কতটা স্বচ্ছতা ফেরে।