প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শপথ গ্রহণ শেষ হতেই রাজধর্ম পালনে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তিনি প্রমাণ করে দিলেন, তাঁর সরকার কেবল শাসনের জন্য নয়, বরং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিংসার আগুনে যারা নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন, সেই পরিবারগুলোর জন্য এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিল নতুন রাজ্য মন্ত্রিসভা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন ঘোষণা করেন, বিগত বছরগুলোতে রাজ্যে রাজনৈতিক হানাহানির শিকার হওয়া ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের সম্পূর্ণ সামাজিক ও কল্যাণকর দায়িত্ব গ্রহণ করছে তাঁর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, হিংসার বলি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। এখন থেকে এই পরিবারগুলোর গ্রাসাচ্ছাদন, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সামাজিক নিরাপত্তার সব দায়ভার বহন করবে রাজ্য সরকার।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচার এবং আশ্রয়ের আশায় দিন গুনছিল। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তাঁদের জন্য স্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করা হলো। সরকারি সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত এই ৩২১টি পরিবারের তালিকা যাচাই করে তাঁদের কাছে সরকারি সাহায্য ও পুনর্বাসনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। নবান্নের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেবল একটি সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ‘মানবিক অভিভাবকত্ব’ হিসেবে দেখছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই পরিবারগুলোকে কেবল আর্থিক বা সামাজিক সাহায্যই নয়, বরং তারা যাতে প্রকৃত ন্যায়বিচার পায় সেদিকেও সরকার কড়া নজর রাখবে। যারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বিফলে যেতে দেবে না এই নতুন মন্ত্রিসভা—প্রথম দিনের বৈঠকেই এই বলিষ্ঠ বার্তা পৌঁছে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রথম বৈঠকের এই একটি সিদ্ধান্তেই মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার প্রতিহিংসা নয়, বরং ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে বদ্ধপরিকর। ৩২১ টি শোকাতুর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে থাকবে।