প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বীরভূমের লালমাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র গৃহযুদ্ধ এবার একেবারে রাজপথে আছড়ে পড়ল। অনুব্রত মণ্ডলের গড় বলে পরিচিত এই জেলায় এবার নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল এখন বিরোধী আসনে, আর বীরভূমের মোট ১১ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৫ টিতে কোনোমতে জিতেছে তারা। বাকি ৬ টি আসনেই ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই চরম ভরাডুবির পরই দলের ভেতরের কোন্দল আর চেপে রাখতে পারলেন না কোর কমিটির অন্যতম দাপুটে সদস্য তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং হাসনের তৃণমূল বিধায়ক। সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দিকে ‘গদ্দারি’ বা অন্তর্ঘাতের আঙুল তুলে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তাঁরা।

ভোটের ফলাফলের এই সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কেষ্ট-হীন বীরভূমে ক্ষমতা হারানোর পর ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো কতটা নড়বড়ে। জেলার মোট বিধানসভা আসন ১১ টি।তৃণমূলের জয়: মাত্র ৫টি আসনে। তৃণমূলের পরাজয়: ৬টি আসনে। লোকসভা ভোটেও যেখানে বীরভূমের দুটি আসনেই তৃণমূল লিড পেয়েছিল, সেখানে ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী আসনে চলে যাওয়ার ফল কার্যত নজিরবিহীন। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রত মণ্ডল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফিরে এলেও দলের অন্দরে আদি বনাম নব্য শিবিরের যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল, এই ফল তারই খেসারত।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, “দলের মধ্যে গদ্দার ঢুকে আছে, সেইজন্যই পশ্চিমবাংলায় তৃণমূলের পরাজয়।” এখানেই থামেননি তিনি। বীরভূম জেলায় দলের এই শোচনীয় হারের জন্য সরাসরি আঙুল তুলেছেন দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। কাজলবাবুর স্পষ্ট কথা, “কারও নাম নেব না, তবে বীরভূম জেলায় হারের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িত আছে।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় এটা স্পষ্ট যে, ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী আসনে বসার পর বীরভূম তৃণমূলে অনুব্রত বনাম কাজল শেখ শিবিরের লড়াই এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। এখন দেখার, বীরভূমের এই ‘গদ্দার’ তত্ত্ব এবং কাজল শেখের এই মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল হাইকম্যান্ড কী ব্যবস্থা নেয়।