প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতার রাজপথ থেকে শুরু করে খোদ বিধানসভা ভবন চত্বর। যেখানে বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধিদের আগমন মানেই সাইরেন, বিলাসবহুল গাড়ির কনভয় আর ভিআইপি কালচার, সেখানে সমস্ত চেনা প্রথাকে ভেঙে চুরমার করে দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া (SC) কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজালি। কোনো রকম রাজকীয় আড়ম্বর ছাড়াই, স্রেফ সাধারণ মানুষের মত দু’চাকার সাইকেল প্যাডেল করে তিনি এসে পৌঁছলেন নিজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে।
জাতীয় স্তরে জ্বালানি সাশ্রয়, তেলের অপচয় বন্ধ করা এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন, তাকে বাস্তব রূপ দিতেই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিজের কনভয় অর্ধেক করে তেলের সাশ্রয় করার যে উদাহরণ দেশবাসীর সামনে রেখেছেন, তারই একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে এই পদক্ষেপ নেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। বিধায়ক প্রদীপবাবু স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নীতিই তাঁকে এই সাধারণ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এদিন শুভ্র ঐতিহ্যবাহী পাজামা-পাঞ্জাবি এবং গলায় দলীয় ঐতিহ্যের প্রতীক গেরুয়া উত্তরীয় পরিহিত অবস্থায় তিনি কলকাতার এমএলএ হোস্টেল থেকে প্যাডেল করে রওনা দেন। রাস্তায় পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিধানসভার গেটে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী— প্রত্যেকেই এই দৃশ্য দেখে কুর্নিশ জানান। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজালি অত্যন্ত মার্জিত এবং সুশৃঙ্খল ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশের সম্পদ এবং জ্বালানি রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক কর্তব্য। আমি চেষ্টা করব, যতদিন সম্ভব এমএলএ হোস্টেল থেকে বিধানসভায় যাতায়াতের জন্য এই পরিবেশবান্ধব সাইকেলকেই আমার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে।”
বিজেপির এই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এই সরলতা এবং দেশপ্রেমের অনন্য নিদর্শন ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সাধারণ নেটিজেনদের একাংশের মতে, “জনপ্রতিনিধিদের এমন মাটির কাছাকাছি থাকা আচরণই সাধারণ মানুষের মনে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ভরসা আরও বাড়িয়ে দেয়।”