প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে বৃহস্পতিবার যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন এবং অভূতপূর্ব! রাজ্যের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরেই আদালত চত্বরে তৈরি হলো তীব্র উত্তেজনা। আইনজীবীদের একটি বড় অংশ এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আকস্মিকভাবেই শুরু হয় চরম বিক্ষোভ এবং নজিরবিহীন পরিস্থিতি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার দিল্লির বুক থেকে রাজ্যের বিরোধী দলকে নজিরবিহীন ভাষায় বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এক একটি মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি।
দিল্লির সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানান, এই ঘটনা আসলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষেরই বহিঃপ্রকাশ। অত্যন্ত মার্জিত অথচ তীক্ষ্ণ ভাষায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “কৃতকর্মের ফল তো সব সময়ে পিছু ছাড়ে না”। অর্থাৎ, বিগত দিনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের কারণেই যে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে এই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তবে কোনো রকম বিতর্ক বা আইনি জটিলতার সুযোগ না রেখে শমীক বাবু অত্যন্ত চতুরভাবে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, একজন প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এই ধরণের স্লোগান দেওয়া বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা শিক্ষা নয়। কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ এই পরিস্থিতি সমর্থন করে না। ফলে এই ঘটনার সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির যে সরাসরি কোনো সাংগঠনিক যোগ নেই, তা তিনি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সুনিশ্চিত করেছেন। সবচেয়ে বড় চমক দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য ইঙ্গিত করেছেন এক গভীর অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের।
তাঁর দাবি, এই বিক্ষোভকারীদের পরিচয় ভালো করে খোঁজ নিলে দেখা যেতে পারে, এর মধ্যে অনেকেই হয়তো খোদ তৃণমূলেরই লোক! দলের অভ্যন্তরীণ চরম কোন্দল এবং ক্ষোভের কারণেই যে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ শমীক বাবুর ইঙ্গিত অনুযায়ী, নেত্রীর এই চরম অস্বস্তির পেছনে খোদ দলের অন্দরেই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’!আদালত চত্বরের এই হাই-ভোল্টেজ ঘটনা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে শমীক ভট্টাচার্যের এই রাজনৈতিক চাল আগামী দিনে বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।