প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বাংলার মানুষের ঐতিহাসিক রায়ে বিধানসভা থেকে পাততাড়ি গুটিয়েছে দেড় দশকের একনায়কতন্ত্র। আজ নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসুর আসন গ্রহণের সাথে সাথেই শুরু হলো এক নতুন স্বর্ণযুগ। আর এই মাহেন্দ্রক্ষণেই রাজ্য বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে কার্যত রাজনৈতিক সুনামি এনে দিলেন প্রবীণ বিধায়ক তথা প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। তাঁর মাত্র তিনটি শব্দ—“পাপমুক্ত, শাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ”—যেন বিরোধী বেঞ্চে দিকভ্রান্তের মতো বসে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনও নাম না নিয়েও তাপস রায় যেভাবে মমতা-অভিষেকের পুরোনো ‘সিন্ডিকেট কোম্পানি’কে তুলোধোনা করলেন, তার জবাব দেওয়ার মতো ক্ষমতা আজ আর ঘাসফুল শিবিরের নেই।
আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাপস রায় অত্যন্ত কড়া সুরে দাবি তুলেছেন যে, বিধানসভার পবিত্র কক্ষের ভিতরে কোনো ধরণের “দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান” চলতে দেওয়া যাবে না এবং এর বিরুদ্ধে কড়া আইন আনতে হবে। এই একটি মন্তব্যের মাধ্যমে তাপস রায় সরাসরি তৃণমূলের সেই পুরোনো উগ্র তোষণ ও উগ্র আঞ্চলিক রাজনীতির লাইনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে যারা এতদিন বিধানসভার গরিমা লুণ্ঠন করেছে, দেশাত্মবোধের পরিপন্থী আচরণকে প্রশ্রয় দিয়েছে, এই ইঙ্গিত নিশ্চিতভাবেই তাদের দিকে। জাতীয়তাবাদ এবং দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে নতুন সরকার যে একচুলও রেয়াত করবে না, তা আজ প্রথম দিনেই স্পষ্ট করে দেওয়া হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা যখন এই শব্দগুলি ব্যবহার করেন, তখন তাঁর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতা ও তথ্য। বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা-বালির সিন্ডিকেট রাজ।এতদিন ভোট মানেই যেখানে ছিল রক্তপাত আর হিংসা, সেখানে চব্বিশের লোকসভা থেকে শুরু করে ছাব্বিশের এই বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় বাংলা আজ সত্যি হিংসামুক্ত ও ভয়মুক্ত রাজনীতির মুখ দেখছে। তাপস রায় আসলে বাংলার সেই কোটি কোটি নিপীড়িত মানুষের মনের ক্ষোভটাকেই আইনি ভাষায় সরকারি সিলমোহর দিলেন।
আজ বিধানসভার সমীকরণটাই বদলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার যখন সগৌরবে বেঞ্চ আলো করে বসে রয়েছে, তখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের বেঞ্চে কেবলই হতাশার ছায়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাপস রায়ের এই আক্রমণের পর তৃণমূলের কোনো নেতার পাল্টা মুখ খোলার সাহস ছিল না। কারণ তাঁরা ভালো করেই জানেন, তাপস রায় একসময় এই দলের অন্দরের সমস্ত হাঁড়ির খবর রাখতেন। তাঁর তোলা প্রতিটি অভিযোগের পেছনে যে পাহাড়প্রমাণ সত্য লুকিয়ে রয়েছে, তা আজ আইনি মারপ্যাঁচ দিয়েও অস্বীকার করার উপায় নেই তৃণমূলের।
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনের পর এটা স্পষ্ট যে, বাংলায় কেবল সরকার বদল হয়নি, বদলে গিয়েছে বিধানসভার সংস্কৃতিও। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জিরো-টলারেন্স নীতি, আর অন্যদিকে স্পিকারের আসনে উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র রথীন্দ্র বসুর নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তাপস রায়ের এই মোক্ষম চাল বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে বিরোধী বেঞ্চে বসে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজের অবশিষ্টাংশকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না রাষ্ট্রবাদী শিবির!