প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই। একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং রাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার খোদ বিধানসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও একটি নতুন অত্যাধুনিক বিধানসভা ভবন নির্মাণের এক নজিরবিহীন মহাপরিকল্পনার আভাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার বিধানসভায় নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বোস নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে হাউসকে সম্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ভাষণেই তিনি অসমের সাম্প্রতিক ডিলিমিটেশন বা সমষ্টি পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার সফল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে বাংলার মানুষের সঠিক ও সুষম গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে এই ধরণের সদর্থক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবনির্বাচিত স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “আগামী দিনে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই হয়তো আমাদের এই ঐতিহাসিক বিধানসভা ভবনের আমূল সংস্কার করতে হবে, অথবা একটি সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক বিধানসভা ভবন নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করতে হবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের The Delimitation Bill, 2026-এর ভাবনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রেও যে এক বড়সড় ও সদর্থক বদল আসতে চলেছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তারই স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বর্তমান বিধানসভার আসন সংখ্যা ও পরিকাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে প্রতিটি এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি ও সমস্যা আইনসভায় সঠিকভাবে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, তাঁর সরকার কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং আগামী কয়েক দশকের উন্নত ও শক্তিশালী বাংলার এক মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চাইছে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা বিতর্ক নয়, সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি পথে বাংলার সংসদীয় পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তোলাই এই ভাবনার মূল লক্ষ্য।