প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় সুশাসনের জমানায় এবার অপরাধ ও কর্তব্যে গাফিলতির বিরুদ্ধে শুরু হলো রাজধর্ম পালন। আরজি করের তিলোত্তমার বিচার এবং নারীনাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম আপস না করার যে বার্তা বিজেপি নেতৃত্ব দিয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত করে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন। আরজি কর হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্তে চরম গাফিলতি, বেআইনি কার্যকলাপ এবং তথ্য-প্রমাণকে প্রভাবিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সহ তিন শীর্ষ আইপিএস (IPS) অফিসারকে একযোগে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হলো। আজ নবান্নে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই যুগান্তকারী ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকায় যে তিন প্রভাবশালী আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা হলেন:১. বিনীত গোয়েল (তৎকালীন পুলিশ কমিশনার, কলকাতা) ২. ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (আইপিএস আধিকারিক) ৩. অভিষেক গুপ্ত (আইপিএস আধিকারিক)।আইনি নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই তিন পদস্থ কর্তার বিরুদ্ধে কড়া ধারায় বিভাগীয় পদক্ষেপ (Departmental Proceedings) শুরু করা হচ্ছে।
প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, মূলত তিনটি প্রধান কারণ ও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই অ্যাকশন। নির্যাতিতার শোকস্তব্ধ পরিবারকে তৎকালীন সময়ে আর্থিক সুবিধা বা টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত নির্দেশ বা অনুমতি ছাড়াই স্পর্শকাতর এই মামলা নিয়ে বেআইনিভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখার অভিযোগ। আরজি কর কাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতি এবং তথ্য-প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়াকে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি তিলোত্তমার মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের প্রতি নতুন সরকারের এক ঐতিহাসিক সম্মান। বিগত দিনে যে তদন্তকে পুলিশি ক্ষমতার দম্ভে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রমাণ করল যে অন্যায়কারী যত বড়ো পদাধিকারীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে পার পাবেন না।
কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় যখন সিবিআই-কে নতুন করে সাজাপ্রাপ্তদের আধুনিক প্রযুক্তিতে জেরা করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের এই রাজদণ্ড চালনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার মাটিতে মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের মুখোশ টেনে খুলে দিতে শুভেন্দু সরকার যে বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না, আজকের এই ‘মহা-সাসপেনশন’ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।