প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরেই রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক স্তরে অভূতপূর্ব তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসলে থমকে থাকা সীমান্ত কাঁটাতারের কাজ দ্রুত শুরু হবে। সেই কথা রাখতেই এবার প্রথম দফায় মালদা জেলা প্রশাসনকে সামনে রেখে নজিরবিহীন গতিতে কাজ শুরু করল নতুন রাজ্য সরকার। মালদা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যে সমস্ত স্পর্শকাতর অংশে কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, সেখানে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে।

মালদা জেলা শাসক দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF), সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (CPWD) এবং জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা একযোগে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন। মূলত বৈষ্ণবনগর, কালিয়াচক, ইংরেজবাজার, মালদা, হবিবপুর এবং বামনগোলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা ড্রাইভ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক বিশাল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জয়। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, তারা স্রেফ নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি ও তুষ্টিকরণের স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষাকে অবহেলা করে এসেছে। জমি জটের জুজু দেখিয়ে বছরের পর বছর বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তর না করে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধকে পরোক্ষ প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতেই সেই ফাইলবন্দি ফাইল ঝেড়ে ফেলে এক ঝটকায় দীর্ঘদিনের জমি জট কেটে গেল।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি হওয়া দীর্ঘসূত্রিতা ঝেড়ে ফেলে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে শুভেন্দু সরকারের এই কড়া ও তড়িৎ পদক্ষেপ বাংলার বুকে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।